নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদে হামলা: কঠোরতম সাজা হলো হামলাকারীর

১১:২৪ পূর্বাহ্ন | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- প্রত্যাশিত শাস্তি পেল নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা চালানো সন্ত্রাসী ব্রেন্টন টারান্ট। সারা জীবনের জন্য তাকে জেলে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একবারের জন্য প্যারোলে মুক্তি পাবে না সে। তিনদিন ধরে চূড়ান্ত শুনানির পর এই রায় দিয়েছে আদালত। এই প্রথম নিউজিল্যান্ডে কাউকে এত কঠোর শাস্তি দেওয়া হলো।

সপ্তাহের শুরুতেই শুনানি শুরু হয়েছি ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে হামলা চালানো ব্রেন্টন টেরান্টের। তিন দিন ধরে বহু প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতদের পরিবারের জবানবন্দি শুনেছে আদালত। অনেকেই আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি যেন দেওয়া হয় ওই অপরাধীকে। মৃত্যুদণ্ডের আবেদনও এসেছিল। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে মৃত্যুদণ্ডের প্রচলন নেই। সর্বোচ্চ ১৭ বছর পর্যন্ত সাজা ঘোষণাই সেখানে রীতি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কঠোরতম সাজা ঘোষণা হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বিচারপতি।

রায় ঘোষণার সময় তিনি বলেন, ১৭, ২৫, ৩৫ বছরের জন্য সাজা দেওয়া যেত এই সন্ত্রাসীকে। কিন্তু আদালত স্থির করেছে তাকে সারা জীবনের জন্য জেলে পাঠাবে। কখনও প্যারলে বাইরে বেরতে পারবে না এই সন্ত্রাসী। এত কঠোর সাজা নিউজিল্যান্ডে এর আগে কাউকে দেওয়া হয়নি।

এ মামলায় দুটি মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫১ জনকে হত্যা, ৪০ জনকে হত্যাচেষ্টা এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছিল ব্রেন্টন ট্যারেন্টের বিরুদ্ধে। আদালতে সব দায় তিনি স্বীকার করে নেন।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় মসজিদে হত্যাযজ্ঞ চালানোর ওই দৃশ্য নিজের শরীরে বাঁধা ক্যামেরার মাধ্যমে ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন এই উগ্রবাদী, যা পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়।

ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদের পর তৃতীয় আরেকটি মসজিদে হামলা চালানোর পরিকল্পনাও তার ছিল। মসজিদগুলো পুড়িয়ে দিয়ে ‘যত বেশি সম্ভব’মানুষকে তিনি হত্যা করতে চেয়েছিলেন বলে উঠে আসে এ মামলার বিচারে।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন বাংলাদেশি। হামলায় আহত আরও তিন বাংলাদেশিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে দীর্ঘদিন।

নিউ জিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ও সেদিন আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। সফরের বাকি ম্যাচ বাতিল করে ফিরে আসেন তারা।