মসজিদে হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন বিচারক

১২:৪৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার দায়ে অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন টারান্টকে প্যারোলবিহীন আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেশটির হাই কোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে এমন সাজা এটিই প্রথম।

২০১৯ সালের মার্চে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে হামলা চালায় উগ্রপন্থী ব্রেন্টন টারান্ট। তিন দিন ধরে চূড়ান্ত শুনানির পর বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

তিন দিন ধরে বহু প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতদের পরিবারের জবানবন্দি শুনেছেন আদালত। অনেকেই আবেদন জানিয়েছিলেন, নৃশংস এই খুনিকে যেন কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডের আবেদনও এসেছিল। তবে নিউজিল্যান্ডে মৃত্যুদণ্ডের প্রচলন নেই। তবে বর্বরোচিত এ হত্যাযজ্ঞের কঠোরতম সাজা ঘোষণা হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বার্নাবি হাওয়েজ আদালতকে বলেছেন, ‘ওই হামলার জন্য বন্দুকধারী বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করছিল। তার উদ্দেশ্যে ছিল যত বেশি সম্ভব মানুষকে হতাহত করা।’

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, ১৭, ২৫, ৩৫ বছরের জন্য সাজা দেওয়া যেত এই সন্ত্রাসীকে। কিন্তু আদালত স্থির করেছে, তাকে সারা জীবনের জন্য জেলে পাঠাবে। কখনও প্যারোলে বাইরে বেরুতে পারবে না সে।

রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত টারান্টের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘আপনি নিজেকে মানসিকভাবে চরম অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যে কি না নিজের থেকে ভিন্ন মনে করা অন্য মানুষদের ঘৃণা করে।’

‘আপনি যে ক্ষতি করেছেন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা বা জনসম্মুখে স্বীকারোক্তি দেননি। যদিও আমি আপনার (আদালতের) এই প্রক্রিয়াগুলো প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ ত্যাগ করার প্রশংসা করছি, কিন্তু আপনাকে মোটেও অনুতপ্ত বা লজ্জিত দেখাচ্ছে না।’

শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী টারান্টের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘আপনি একটি গণহত্যা চালিয়েছেন। আপনি নিরস্ত্র ও প্রতিরোধবিহীন মানুষদের হত্যা করেছেন।’

দণ্ডের রায় ঘোষণার আগে উচ্চৈস্বরে দীর্ঘসময় ধরে টারান্টের হামলার শিকার ব্যক্তিদের বর্ণনা এবং তাদের স্বজনদের মন্তব্য পড়ে শোনান বিচারক ম্যান্ডার। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ায় দু’বার থেমে যেতে হয় তাকে।

ভুক্তভোগী একটি পরিবারের কথা উল্লেখ করে বিচারক বলেন, ‘তাদের ক্ষতি অসহনীয়। আপনার কর্মকাণ্ড তাদের পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছে, যেভাবে ধ্বংস করেছে আরও অনেক পরিবারকে।’ এসময় নিহত প্রিয়মানুষটির নাম শুনে স্বজনদের অনেককেই চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

ক্রাইস্টচার্চ হামলায় সর্বকনিষ্ঠ ভুক্তভোগীর নাম মুকাদ ইব্রাহিম। টারান্টের গুলিতে প্রাণ হারানোর সময় তার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। মুকাদের কথা উল্লেখ করে বিচারক বলেন, ‘এত ছোট বাচ্চা হারানোর পর কোনও মা-বাবাই স্বাভাবিক হতে পারবে না।’

চলতি সপ্তাহে টানা চারদিন ধরে হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য আদালতের শুনানিতে অংশ নেন। তাদের সবাই অস্ট্রেলীয় নাগরিক টারান্টের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন এবং তিনি যেন কোনওভাবেই আর কখনও মুক্ত হতে না পারেন সেই ব্যবস্থা নিতে বিচারকের কাছে অনুরোধ জানান।