• আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতে সবসময় ভর্তুকি দেয়া সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

২:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ার কারণে এখনো সরকার ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও সব সময় এই ভর্তুকি দেয়া সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বিদ্যুৎ ব‌্যবহারে সতর্ক হওয়া ও অপচয় না করার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ৩১টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিতকরণে দুটি পাওয়ার প্ল্যান্ট, ১১টি গ্রিড সাব-স্টেশন, ছয়টি নতুন সঞ্চালন লাইন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘উৎপাদন খরচ কিন্তু বেশি। এখনও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ যা হয় তার চেয়ে কম দামে সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই বলবো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করুন, অপচয় যাতে না হয়। বিলটাও কম আসবে। এটা আমার বিশেষভাবে অনুরোধ। মনে রাখতে হবে সব সময় ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব না। তবু উন্নয়নের স্বার্থে এখনও তা দেওয়া হচ্ছে।’

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের একটি ঘরও অন্ধকার থাকবে না। প্রতিটি ঘর পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে। এটা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ২০২১ সাল নাগাদ প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো যাবে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বিদ্যুতের ব্যবহারকারী ছিল ৪৭ ভাগ, আজ ৯৭ দশমিক ৫০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘গ্রামের মানুষ যেন সকল সুযোগ-সুবিধা পায়, সে বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে। শুধু শহরের মানুষকে সুযোগ-সুবিধা দিলে হবে না, গ্রামে এখন অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। আমরা বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর আমাদের প্রধান চেষ্টা ছিল রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা। শুধু বাতি জ্বেলে বসে থাকা নয়। বিদ্যুৎ থাকলে কর্মসংস্থানের ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে আমরা এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পেরেছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রাহক বাড়িয়েছি।’

সব জায়গায় যাতে বিদ্যুৎ পৌঁছায় সেজন্য সৌরবিদ্যুতের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষে ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আমরা সব ঘরে আলো জ্বালবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না সেখানে আমরা সোলারের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বিশেষ করে চরাঞ্চলে সোলার ব্যবহার যাতে নিশ্চিত হয় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৮ লাখ সোলার দেয়া হয়েছে।’