সংবাদ শিরোনাম
গোবিন্দগঞ্জে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ | ফরিদপুরে গরীব মেধাবী ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ | লালপুরে গাছ থেকে পড়ে কৃষকের মৃত্যু | কিশোরগঞ্জে আদালতের ব্যতিক্রমধর্মী রায়, নিজ বাড়িতেই সাজা কাটাবেন আসামি! | চুনারুঘাটে ৫০ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে | ‘পুলিশ হিসেবে সমাজকে মাদকমুক্ত করার দায় আমাদের’- বিএমপি কমিশনার | রংপুরে গ্রেফতারের পর জোড়া খুনের আসামীর মৃত্যু | শেরপুরে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন: গৃহকর্তাকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন | নওগাঁয় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি | আড়িয়াল খাঁর গর্ভে দুই শতাধিক বাড়িঘর বিলীন |
  • আজ ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলবে: প্রধানমন্ত্রী

২:২৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের একটি ঘরও অন্ধকার থাকবে না। প্রতিটি ঘর পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে। এটা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ২০২১ সাল নাগাদ প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো যাবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ৩১টি উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে দুটি পাওয়ার প্ল্যান্ট, ১১টি গ্রিড সাব-স্টেশন, ছয়টি নতুন সঞ্চালন লাইনও উদ্বোধন করেছেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে এগুলো উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয় থেকে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন। মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ২৭টি জেলার জনপ্রতিনিধিরাও ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

স্বাধীনতার পর জাতির পিতার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু একটা প্রত্যয় নিয়ে, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, যে লক্ষ্য নিয়ে জাতির পিতা স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তার সেই স্বপ্ন পূরণ করা, বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বাংলার মানুষকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়া এবং স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ছয়টি বছর আমাদের বিদেশে রিফিজিউ হিসেবে থাকতে হয়েছিল। আওয়ামী লীগ যখন আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে তখন ফিরে আসার সুযোগ পাই। তখন জোর করে দেশে ফিরে আসি। তারপর থেকেই এই প্রচেষ্টা; যে স্বপ্ন আমার বাবা দেখে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর শুরু হয় হত্যা ও ক্যূ ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। মিলিটারি ডিকটেটররা মার্শাল ল জারি করে এদেশের শাসনভার হাতে নেয়। তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করবার জন্য স্বজনপ্রীতি, তোষামোদী, খোষামোদী ও দুর্নীতিকে স্থায়ী রূপ দিয়ে যায়। দেশের উন্নয়ন না করলেও তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়। কিছু লোককে তারা অর্থ ও সম্পদশালী করে দেয়। এভাবেই তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু দেশের মানুষ শোষিত-বঞ্চিতই থেকে যায়। এটাই হচ্ছে সব থেকে দুভার্গ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮১ সালে আমি দেশে ফিরে এসে সমগ্র বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ঘুরেছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েছি। আমি দেখেছি মানুষের হাহাকার, মানুষের দুঃখ কষ্ট। মানুষের ক্ষুধার জ্বালা, মানুষের কঙ্কালসার দেহ। রোগে ধুকে ধুকে মরা। দুর্ভিক্ষে দিনের পর দিন মানুষের মৃত্যু। আমি বাংলাদেশ ঘুরেছি এবং আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারে আসার পর থেকে আমাদের প্রচেষ্টা দেশের উন্নয়ন। উন্নয়ন শুধু রাজধানী কেন্দ্রিক না, উন্নয়নটা যেন সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে যে মানুষগুলো থাকে তারা যেন নিজেদেরকে কখনও অবহেলিত মনে না করে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করি এবং আমরা তা বাস্তবায়ন শুরু করি। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের বাংলাদেশ। বলতে গেলে বাংলাদেশ অন্ধকারই ছিল; দিনের পর দিন বিদ্যুৎই পাওয়া যেত না। যারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও ইন্ড্রাস্ট্রি চালাত তাদেরকে জেনারেটর কিনে চালাতে হতো। এভাবে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই দুর্বিসহ অবস্থা ছিল।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘সার্বিক উন্নয়নের জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন হয় রাস্তাঘাট বা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এছাড়া আরেক দিকে বিদ্যুতের ব্যবস্থা। যদি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যায়, স্বাভাবিকভাবে সেই সব এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হতে পারে। শুধু ঘরে আলো জ্বেলে ঘরে বসা থাকা না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা শিল্প গড়ে তোলা অথবা কৃষি খামার গড়ে তোলা বা যেকোনো কাজের জন্য বিদ্যুৎ একান্ত অপরিহার্য। সেজন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে সঞ্চালন বৃদ্ধি ও মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। তার শুভ ফল আজ মানুষ পাচ্ছে।’