টারান্টের বিচার চলাকালে নিউজিল্যান্ডের আদালতে কোরআন তেলাওয়াত

২:৪৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা করে ৫১ জনকে হত্যার বিচার চলাকালে আদালতে কোরআন থেকে পাঠ করা হয়েছে।

গত বছরের মার্চের এ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্রেন্টন টারান্টকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের শাস্তি দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। সাজাপ্রাপ্ত ব্রেন্টন টারান্টের প্যারোলে মুক্তি পাওয়ারও কোনো সুযোগ থাকবে না।

এই প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডে প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দেয়া হলো। হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্টকে আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের বিচার ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

২৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান, যার বিরুদ্ধে ৫১ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, আরো ৪০ জনকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

গত বছরের ১৫ই মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে বন্দুক নিয়ে গুলি করতে শুরু করে ওই হামলাকারী। গুলি করার দৃশ্য সে সরাসরি অনলাইনে সম্প্রচার করে।

বিচারের সময় কী হয়েছে?
ব্রেন্টন টারান্টের বিচারের শুনানি চারদিন ধরে চলেছে এবং এই সময়ে ৬০ জনের বেশি ভুক্তভোগীর বিবৃতি শুনেছেন আদালত। বিবৃতির শেষদিনে আদালতে কোরআন শরীফের আয়াত তিলাওয়াত করা হয় এবং ভুক্তভোগীদের মারা যাওয়া পরিবারের সদস্যদের ছবি দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবারের সাজা শোনানোর আগে বন্দুকধারী ব্রেন্টন টারান্ট আদালতে কথা বলেননি।

কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে আদালত কক্ষ প্রায় খালিই ছিল। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভিডিও ফিডের মাধ্যমে শহরের অন্যান্য আদালত কক্ষে হাজার হাজার মানুষ আদালতের কার্যক্রম দেখানো হয়েছে।

ধুসর রঙের পোশাক এবং তিনজন পুলিশ কর্মকর্তার বেষ্টনীতে ব্রেন্টন টারান্ট পুরো সময় চুপচাপ ছিলেন বলে জানা যায়।

এ মামলার প্রধান প্রসিকিউটর মার্ক জারিফেহ বলেন, ‘বন্দুকধারী টারান্টের জন্য ন্যূনতম কোনও দণ্ডই যথেষ্ট হবে না। এটি কোনও ধরনের তুলনা ছাড়াই নিঃসন্দেহে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অপরাধমূলক ঘটনা। স্পষ্টতই তিনি (টারান্ট) নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে জঘন্যতম খুনি।’

চলতি সপ্তাহে টানা চারদিন ধরে হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য আদালতের শুনানিতে অংশ নেন। তাদের সবাই অস্ট্রেলীয় নাগরিক টারান্টের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন এবং তিনি যেন কোনওভাবেই আর কখনও মুক্ত হতে না পারেন সেই ব্যবস্থা নিতে বিচারকের কাছে অনুরোধ জানান।

রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত টারান্টের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘আপনি নিজেকে মানসিকভাবে চরম অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যে কি না নিজের থেকে ভিন্ন মনে করা অন্য মানুষদের ঘৃণা করে।’

‘আপনি যে ক্ষতি করেছেন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা বা জনসম্মুখে স্বীকারোক্তি দেননি। যদিও আমি আপনার (আদালতের) এই প্রক্রিয়াগুলো প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ ত্যাগ করার প্রশংসা করছি, কিন্তু আপনাকে মোটেও অনুতপ্ত বা লজ্জিত দেখাচ্ছে না।’

শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী টারান্টের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘আপনি একটি গণহত্যা চালিয়েছেন। আপনি নিরস্ত্র ও প্রতিরোধবিহীন মানুষদের হত্যা করেছেন।’

দণ্ডের রায় ঘোষণার আগে উচ্চৈস্বরে দীর্ঘসময় ধরে টারান্টের হামলার শিকার ব্যক্তিদের বর্ণনা এবং তাদের স্বজনদের মন্তব্য পড়ে শোনান বিচারক ম্যান্ডার। এসময় আবেগ্লাপ্লুত হয়ে পড়ায় দু’বার থেমে যেতে হয় তাকে।

ভুক্তভোগী একটি পরিবারের কথা উল্লেখ করে বিচারক বলেন, ‘তাদের ক্ষতি অসহনীয়। আপনার কর্মকাণ্ড তাদের পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছে, যেভাবে ধ্বংস করেছে আরও অনেক পরিবারকে।’ এসময় নিহত প্রিয়মানুষটির নাম শুনে স্বজনদের অনেককেই চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।