সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মেম্বারের পরিবারে দুটি সরকারি ঘর, বসবাস করে ভাড়াটিয়া!

১১:৪২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২০ রংপুর
mem

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: জমি আছে ঘর নেই- এমন দুঃস্থ ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুটি ঘর ভাই-ভাবীর নামে বরাদ্দ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য সাইদুল ইসলাম। এমনকি ঐ ঘর ভাড়া দিয়ে তিনি নিয়মিত ভাড়াও উঠাচ্ছেন।

জানা গেছে, জমি আছে ঘর নেই- এমন দুঃস্থ ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে দুর্যোগ সহনীয় বসতঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়। দুই কক্ষ, রান্না ও বাথরুমসহ করিডোর বিশিষ্ট প্রতিটি বাড়ির বিপরীতে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে হতদরিদ্র এবং যারা ১০ শতাংশের নিচে জমির মালিক ও থাকার ঘর নেই তারাই এই ঘর পাবেন।

কিন্তু দহগ্রাম ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম তাঁর বড় ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি) হালিমা বেগমকে দরিদ্র দেখিয়ে ৪/৫ বছর আগে জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ করিয়ে নেন। হালিমা বেগমের নামে বরাদ্দের ঘরটি কৌশলে ইউপি সদস্যের নিজ নামীয় জমি নয়ারহাট এলাকায় নির্মাণ করে দখলে নেন তিনি।

ভাবির নামে নেওয়া ঘরটি তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট ভাড়া প্রদান করেন। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরটিতে ভাড়ায় বসবাসরতদের ব্যবহৃত ছবি সংগ্রহ করার পরদিনই তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে মালামালসহ ভাড়াটিয়াদেরকে অন্যত্র সরিয়ে দেন।

এ ছাড়াও সম্প্রতি হালিমা বেগমের স্বামী (ইউপি সদস্যের বড় ভাই) শাহজামালকে দরিদ্র দেখিয়ে আবারো দুর্যোগ সহনীয় একটি সরকারি ঘর বরাদ্দ নেন।

ওই ইউনিয়নের অপর একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাইদুল ইসলাম ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে তার আর্থিক অবস্থা শোচনীয় ছিল। কিন্তু দুই দফায় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আখের গুছিয়ে সম্পদশালীর বনে গেছেন। বর্তমানে তিনি ট্রাক, ট্রলি, জমিসহ অনেক সম্পদের মালিক।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম আপন বড় ভাই-ভাবির নামে দুইটি সরকারি ঘর বরাদ্দ নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার বড় ভাবি একজন স্বামী পরিত্যক্তা। আমার বড় ভাই দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা থাকেন। আগের স্ত্রীর কোনো খরচ দেন না তাই তাঁর নামে ঘরটি বরাদ্দ নিয়েছি। বড় ভাইয়ের নামে আরো একটি সরকারি ঘর কিভাবে বরাদ্দ নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এবিষয়ে কথা হলে পাটগ্রামের ৭ নম্বর দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন প্রধান বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপন ভাই-ভাবির নামে দুইটি সরকারি ঘর বরাদ্ধ নেওয়া ঠিক করেননি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ইউপি সদস্য নিজ ভাই-ভাবির নামে ঘর বরাদ্দ নেওয়া ঠিক করেনি। আমি এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।