কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাসহ ৭ স্বাধীনতাকামীর মৃত্যু

১০:৩৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২০ আন্তর্জাতিক
kasm

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গেল ২৪ ঘণ্টায় ৭ স্বাধীনতাকামী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসময় একজন ভারতীয় সেনা সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় কমপক্ষে তিন স্বাধীনতাকামী ও একজন ভারতীয় সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। গতকাল শুক্রবার জাদুরা এলাকায় মাঝরাতে শুরু হয় হামলা, শেষ হয় শনিবার সকালে। তাতে মোট চারজনের প্রাণহানি হয়।

পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, “পুলওয়ামার জাদুরা এলাকায় তিন অজ্ঞাত স্বাধীনতাকামীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।” এই ঘটনায় গুরুতর আহত এক ভারতীয় সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নিহতরা লস্কর ই তৈয়বার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এদিকে শুক্রবার সোপিয়ান জেলায় আরেকটি অপারেশনে আরো চার জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়। ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থানীয় এক পঞ্চায়েত নেতাকে অপহরণ করার সময় অপারেশন চালালে নিহত হয় তারা। কিলোরা এলাকায় এই ঘটনায় একজন আত্মসর্ম্পণও করেছেন। এসময় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী অন্তত ১৮০ জনকে বিভিন্ন অভিযানের নামে হত্যা করে বলে জানায় অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম এবিসি নিউজ। সংবাদমাধ্যমটি দাবি করে, নিহতদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষ গত ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকেই ওই অঞ্চলের তরুণদের মধ্যে স্বাধীনতার দাবি চড়াও হতে থাকে।

স্বাধীনতা দাবি করা কাশ্মীরের সশস্ত্র গোষ্ঠী আল বদরের উদ্ধৃতি দিয়ে এবিসি নিউজ জানায়, জানুয়ারি থেকে সরকারি বাহিনীর অন্তত ৬৪ সদস্য বিভিন্ন সময় তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। আর তাদের নিজেদের ৪৬ জন নিহত হয়েছেন।

কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এতে চলতি বছরে নানা সময় সংঘর্ষে কয়েক ডজন সেনা ও বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। ভারতীয় উপ-মহাদেশের মুসলিমরা মনে করে কাশ্মীর পাকিস্তানের অধীনে থাকা উচিৎ এবং সেখানকার স্থানীয় কাশ্মীরের মানুষও পাকিস্তানের অধীন অথবা স্বাধীনতা যেকোনো একটির পক্ষেই কথা বলছেন। তবে বর্তমানে তাদের দাবি স্বাধীনতা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

এ দিকে ভারতের অভিযোগ কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে পাকিস্তান। তবে, পাকিস্তান সেটি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।