করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ওষুধ নিয়ে আশার আলো

৩:১৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২০ সুখবর প্রতিদিন

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এর প্রতিরোধক ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশের অ্যালার্জি অ্যাজমা এন্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান বিজ্ঞানী ডা. এম এ হাসান।

এম এ হাসান বলছেন, এই ওষুধটির নাম টেনোফোভির ডিসোপ্রক্সিল ফিউমারেটকে (টিডিএফ)। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরে আমরা কেবল এর বিবর্তনের রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা করিনি। সেই সঙ্গে ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে এই রোগের বিস্তার রোধের জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক এবং নিরাময়মূলক ওষুধ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছিলাম।

সেই কাজে সাহায্য করেছে টেনোফোভির। এইচআইভি এবং হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত যেসব রোগী টেনোফোভির নিচ্ছে তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের ‍উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

এম এ হাসানের দল ২০২০ সালের মার্চ থেকে টেনোফোভির ডিসোপ্রক্সিল ফুমারেট (টিডিএফ) নিয়ে গবেষণা শুরু করে। যা সাধারণত ডিএনএ ভাইরাসের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাতেই দেখা গেছে আশার আলো। এসব রোগীদের কারোরই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ৩৩ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১,৪১৯ জনের উপর গবেষণা চালিয়ে এই সব তথ্য পাওয়া গেছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, টেনোফোভির ৯৮ শতাংশ ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ সংক্রমণের তীব্রতা হ্রাস করেছে। প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এটি ৯৮-৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে উচ্চ-ঝুঁকির সদস্যদের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। টেনোফোভির কোভিড -১৯ এর তীব্রতা হ্রাস করে, বিশেষত যখন এটি ফ্যাভিপিরাভির এবং ডেক্সামেথেসোনসহ ব্যবহৃত হয়।

আমাদের গবেষণায় টেনোফোভির প্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ০.২ (০.১৬ শতাংশ) এর চেয়েও করোনাভাইরাস পজিটিভ কম পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেও তারা সংক্রমিত হননি এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিরা ৪-৫ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে গেছে। ২৫-৫০ বছর বয়সীদের হাসপাতালে ভর্তি এবং পুনরুদ্ধারের সময়কাল ছিল ৪-৫ দিন।

এম এ হাসান তার লেখায় বলেন, মারাত্মকভাবে সংক্রমিতদের মধ্যে ফ্যাভিপিরাভিরকে টেনোফোভিরের সাথে যুক্ত করা হলে মৃত্যুর হার ১ শতাংশ কমে যায়। যখন রোগী টেনোফোভির এবং ফেভিপিরাবির সাথে ডেক্সামেথেসোন পান তখন নিরাময়ের সময় আরও কমে যায়।