সংবাদ শিরোনাম
শিল্পপতি হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে ভূমিমন্ত্রীর শোক | বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড দলকে অভিনন্দন জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী | ‘শেখ হাসিনার জন্যই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে’- মেয়র তাপস | ‘নভেম্বরে আসতে পারে করোনার ভ্যাকসিন’- স্বাস্থ্যমন্ত্রী | শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির বাতিঘর ও কাণ্ডারি: শিক্ষামন্ত্রী | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ও এইচএসসি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষামন্ত্রী | দেশে ইতিহাস বিকৃতির জনক জিয়াউর রহমান: কাদের | শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার অফুরন্ত প্রেরণা: কাদের | শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বাকৃবি ছাত্রলীগের দোয়া মাহফিল | নারীর দিকে আড়চোখে তাকাবে, এমন কর্মী ছাত্রলীগে নেই: লেখক |
  • আজ ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে ৪০০ বছরের গণকবরস্থান রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

১০:২৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২০ চট্টগ্রাম
Feni

আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর সোনাগাজীতে ভূমি দস্যুদের কবল থেকে দৌলত চৌধূরী দীঘির পাড়ের ৪০০ বছরের গণকবরাস্থান রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে এলাকাবাসী।

রোববার সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত দৌলত চৌধূরী দীঘি সংলগ্ন সড়কে মতিগঞ্জ ও সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এই কর্মসূচী পালন করেন।

মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তরা বলেন, প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে ছাড়াইতকান্দি গ্রামের জমিদার দৌলত চৌধূরী এলাকাবাসীর জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে ৯ একর জমিতে একটি দীঘি খনন করেন। তার নামানুসারে দীর্ঘিটির নামকরণ করা হয় দৌলত চৌধূরীর দীঘি। দীঘিটির চারপাশে স্থানীয় মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য গণকবরাস্থান হিসেবে উম্মুক্ত রাখা হয়। চার পাশেই ছাড়াইতকান্দি ও সুলাখালী গ্রামের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুকে ওই কবরাস্থানে সমাহিত করা হয়।

বংশানুক্রমে সর্বশেষ মুজিব আলী চৌধূরী গংদের ওয়ারিশ থেকে সুলাখালী গ্রামের ছালেহ আহমদ ও সুজাপুর গ্রামের জাহেদ হোসেন গং দীঘির জলাশয়ে মাছ চাষের জন্য ৫বছর মেয়াদী ইজারা নেন। তারা জলাশয় ইজারা নিয়ে দীঘির দক্ষিণ পাড়ে কবর থেকে কংকাল উপড়ে ফেলে দুটি দোকান ঘর ও পাকা সীমানা প্রচীর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এছাড়াও দীঘির আপর তিন পাড়েও স্কেভেটর মেশিন দিয়ে মৃত মানুষদের কংকাল উপড়ে ফেলে। এনিয়ে গ্রামবাসীর মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা আরো দাবি করেন, সালেহ আহম্মদ ও জাহেদ হোসেন এলাকার চিহ্নিত ভূমি দস্যু। তারা প্রতিনিয়ত ২০-২৫জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী লালন করে এলাকার সাধারণ মানুষদের জিন্মি করে রাখে। তাদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে পারেনা। তাদের দাবি ওই গণকবরাস্থানে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদ মুক্তি যোদ্ধা, ধর্মপ্রাণ মাওলানা, জমিদার বংশের লোক সহ দুটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ওই কবরাস্থানে চির নিন্দ্রায় শায়ীত রয়েছেন। তাদের কংকাল উপড়ে ফেলে ভূমি দস্যু চক্রটি কবরাস্থান জবর দখলের পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে দুটি ইউনিয়নের দুটি গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ পুরুষ তাদের পূর্বপুরুষদের কবর সংরক্ষণ ও কবরাস্থানের পবিত্রতা রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে এই কর্মসূচী পালন করেন। তারা ভূমি দস্যুদের কবল থেকে কবরাস্থানটি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফেনীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও র‍্যাবের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

দৌলত চৌধূরী দীঘির গণকবরাস্থান রক্ষা কমিটির সভাপতি ও ওয়ারিশ সূত্রে একাংশের মালিক শাহাদাত হোসেন কায়েস চৌধূরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নূরুল আলম শিমুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচীতে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা আমিন উল্লাহ, একাংশের ওয়ারিশি মালিক সালাহ উদ্দিন চৌধূরী, গাজী সালাহ উদ্দিন রবিন, করিম উল্যাহ খোন্দকার, আরিফুল ইসলাম, সোহেল ছাকলাদার, আবুল হোসেন, আবুল কালাম, আবদুল শুক্কুর, শফি উল্যাহ, জয়নাল আবেদীন ও বিবি কুলছুম।

মানববন্ধন কর্মসূচীতে তারা আরো দাবি করেন, রোববার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচীতে জড়ো হওয়ার প্রাক্কালে ভূমি দস্যু সালেহ আহম্মদ ও জাহেদ হোসেনের লালিত সন্ত্রাসী মো. রুবেল, মো. এয়াছিন, হেলাল উদ্দিন, রাকিব ও শাহাজাহানের নেতৃত্বে ১৫-২০জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চাঁন মিয়া সওদার বাড়ির সামনে নিরিহ গ্রামবাসীর উপর হামলা করে। এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় মো. তারেক, মো. ফয়সাল, মো. সুজন, নজরুল ইসলাম, মো. রুবেল, মো. সজিব, মো. পিন্টু, মো. রিমন, মো. মিরাজ ও মো. সমীর সহ ১০জন গ্রামবাসী আহত হয়। আহতরা সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক নিয়েছে। হামলাকারীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।