কর্ণফুলীতে ১৫ বছর যাবত সংস্কারবিহীন ১ কিলোমিটার খানাখন্দ সড়ক!

৬:৪৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২০ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ডাঙারচরের শেষাংশ ঈশান মিস্ত্রী হাটের ১ কিলোমিটার সড়কটি যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ কারণ হিসেবে অনেকে গ্রামীণ এই রাস্তা দিয়ে মিলকারখানা ও ফ্যাক্টরীর বড় বড় লরি ও ভারি যানবাহন চলাচলের ফলে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন।

এলাকার লোকজন আরো জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর আগে সংস্কার হলেও এখন সংস্কারবিহীন সড়কটির শেষ অংশ জুড়েই ছোট-বড় খানাখন্দে গর্তে ভরপুর। এতে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

দিনের বেলায় যানবাহন কোনোরকম চলাচল করতে পারলেও, রাতের অন্ধকারে চলাচল করতে গিয়ে বহু দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও রাতে যানবাহন চলতে গিয়ে গর্তে গাড়ি আটকে পড়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এতে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বলা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার সবচেয়ে অনুন্নত ইউনিয়ন হিসেবে জুলধাকে চিহ্নিত করা হয়।

সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গর্তে পানি জমে কাঁদায় মরণ ফাঁদ তৈরি হলেও প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। সাধারণ লোকজন ছাড়াও এ সড়ক পথ দিয়ে হালিশহর বেগমজান উচ্চ বিদ্যালয়, ডাঙ্গারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাঙ্গারচর আইডিয়াল স্কুল, ডাঙ্গারচর রহমানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতেন শত শত শিক্ষার্থী। যদিও এখন লকডাউন আর করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল কলেজ বন্ধ রয়েছে।

গত রবিবার সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, জুলধা ডাঙারচরের এ সড়কের সামনের অংশে কাজ হলেও গ্রাম সংলগ্ন এই ১ কিলোমিটার মতো সড়কের কাজ র্দীঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে।

জানতে তাইলে স্থানীয় জনতার সাথে সুর মিলিয়ে ডাঙারচরের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তে বৃষ্টির পানি জমে যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে পড়েছে। গর্তে গাড়ি উল্টে পড়ে যাচ্ছে। এতে অনেকেই আহত হয়েছেন। গর্তের কারণে যাত্রী নিয়ে সিএনজি যাতায়াত ও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যা দ্রুত সংস্কার দরকার।’

ডাঙারচরের ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী সালাউদ্দীন সওদাগর বলেন, ‘খানাখন্দের কারণে মালবাহী গাড়ি আসতে চায় না। যারা আসেন তাদের ভাড়া গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ। তাই আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

সিএনজিচালক মো. ওসমান বলেন, ‘সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে গাড়ি চালাতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রতিদিন গাড়ি মেরামতের কাজ করতে হচ্ছে।’

অটো রিকশাচালক গণি জানান, ‘সড়কজুড়ে গর্ত থাকায় রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এতে আগের তুলনায় আয় কমে গেছে।’

স্থানীয় লোকজন আরো জানান, জুলধা পাওয়ার প্লান্ট, এস এ গ্রুপ ট্যাঙ্ক টার্মিনাল, ষ্টার সিমেন্টের মতো বড় বড় ফ্যাক্টরীতে মালামাল আসা নেওয়া করতে গিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। সরকার গ্রামীণ রাস্তার বরাদ্দ দিয়ে কাজ করলেও মূলত এসব সড়ক আরো টেকসই ও মজবুত করতে হলে মিল কারখানা ও ফ্যাক্টরী মালিকদের এগিয়ে আসা উচিত বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

কর্ণফুলী উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী জয়শ্রী দে বলেন, ‘টেন্ডার ওপেনিং হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে আগামী দুএক মাসের মধ্যে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা এলজিইডি’র অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডাঙারচরের শেষাংশ ঈশান মিস্ত্রী হাটের এ সড়কটি ২ কোটি ২ লক্ষ ৫৫৬ টাকা ব্যয়ে টেন্ডারে পাঠানো হয়েছিল। কাজের টেন্ডার ওপেনিং হয়ে ফেনী জেলার হক ট্রেডার্স নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার নিয়ে শিগগিরই কাজ শুরু করবেন।