রংপুরে হত্যাকাণ্ডের সাড়ে চার মাস পর নারী কর্মকর্তার বাসায় চুরি!

৯:৫৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২০ রংপুর
chu

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুরঃ রংপুর ডিসি অফিসের সাবেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আরজুমান বানু হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাড়ে চার মাস পর একই বাড়িতে একটি মাসব্যপি চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা শুধু চুরিই করেনি, নেশার আসরও বসিয়েছিল তার বাসায়। এ ঘটনায় মামলা হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর রোকসানা বেগমের বাসাটি দেখাশুনা করতেন ভাগনি ফারহানা আফরোজ নামের গৃহবধু। তিনি গুপ্তপাড়ায় থাকেন এবং মাঝে মাঝে বাসাটিতে গিয়ে দেখাশুনা করতেন। এরই মধ্যে দুর্বৃত্তরা বাসাটিতে আরেকটি পরিকল্পিত চুরির ঘটনা ঘটনায়।

এই চুরির ঘটনার মামলায় বলা হয়, গত জুলাই মাসের ২৫ জুলাই ১১টা থেকে আগস্ট মাসের ৩০ আগস্ট সকাল ১১টা পূর্বের যে কোন সময় ওই বাড়ির রুমের দরজা ভেঙ্গে ফ্রিজ, পানির পাম্প, সিলিং ফ্যান, স্টান্ড ফ্যান, টিভি, ডিনার সেট, কাচের গ্লাভস, আইপিএস, গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডার, ম্যাজিক চুলাসহ সব কিছুই চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বত্তরা। এই মাসব্যপি চুরির সময়ে দুর্বৃত্তরা সেখানে একাধিকবার পিকনিক ছাড়াও নিয়মিত নেশার সরঞ্জামাদি বসিয়ে নেশাও করে। বিষয়টি এখন রংপুরে টক অব দ্যা টাউন।

পুলিশ ও ভূক্তভোগি সূত্রে প্রকাশ, নগরীর মুলাটোল হকের গলির রোকসানা বেগমের মালিকানাধীন ২৭৭ নং বাসা ভাড়া নিয়ে একাই থাকতেন রোকসানার ননদ আরজুমান বানু মিনু (৬৫) নামের রংপুর ডিসি অফিসের একজন সাবেক অডিট কর্মকর্তা। তার স্বামী মমদেল হোসেনের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর ওই বাসায় একাই থাকতেন মিনু। একমাত্র মেয়ে তানিয়া মাহজাবিন সুমিকে বিয়ে দেয়ার পর একাই থাকতেন তিনি ওই বাসায়।

চলতি বছরের ১৯ মে ওই বাসা থেকে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মিনুর একমাত্র কন্যার সাবেক জামাই এনায়েত হোসেন মোহন বাদী হয়ে ওইদিনই অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে গৃহ পরিচারিকা আছিয়া বেগমকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়। পরে ক্লুলেস এই মামলায় পুলিশের সাফল্য আসে। মুল আসামী আরমান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আরমান গৃহপরিচারিকা আছিয়া বেগমের মেয়ের সুমির স্বামী।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল রশিদ জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মূল অপরাধী নিজেকে কৌশলে আড়াল করে ভাড়াটে খুনি আরমানকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। চুরির ঘটনাটি নিয়ে এজহার পাওয়ার সাথেই মামলাভূক্ত করেছি।

ওই বাড়িতে একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা খুন হওয়ার পর বাড়িটি যাকে দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তার যাতায়াত সেখানে কম ছিল। এই সুযোগে সেখানে চুরিটি সংঘটিত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।