বিপর্যস্ত বগুড়া-চন্দনবাইশা সড়ক, জনদুর্ভোগ চরমে

◷ ৪:০২ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী
Imagetttttttt

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া-চন্দনবাইশা সড়কটির দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। কিন্তু এই ২৪ কিলোমিটার সড়কের মালিকানা তিনটি বিভাগের। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে তিন বিভাগের মধ্যে নেই কোনো সমন্বয়। ফলে পুরো সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ এবং বড় বড় গর্তের। পূর্ব বগুড়ার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি যেন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে।

বগুড়া শহরের ফতেহ আলী ব্রিজ পার হয়ে চেলোপাড়া থেকে সারিয়াকান্দি উপজেলার কড়িতলা পর্যন্ত সড়কটির নাম বগুড়া-চন্দন বাইশা সড়ক। এই সড়কটির মালিকানা বগুড়া পৌরসভা, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের। পূর্ব বগুড়ার সারিয়াকান্দি গাবতলী ও ধুনট উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করে। ভ্যান-রিকশা থেকে শুরু করে হাজার-হাজার যানবাহন চলাচল করে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা।

অনুমোদিত অতিরিক্ত পাথর বোঝাই এবং বালুর ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কটি হয়ে পড়েছে চলাচলের অযোগ্য। পুরো সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দের। এছাড়াও শহরের কৈপাড়া, গাবতলীর, লাঠিগঞ্জ, পাঁচ মাইল, গোলাবাড়ি, মহিষাবানসহ অসংখ্য স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে এই সড়কে চলাচলকারী লোকজনকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

গাবতলী উপজেলার সারটিয়া গ্রামের বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, এই পথে প্রায় প্রতিদিন ‘৪০ থেকে ৫০ টন পাথর বোঝাই ট্রাক চলাচল করায় লাঠিগঞ্জ এলাকায় সড়ক দেবে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির পানি যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।’

গোলাবাড়ির বাসিন্দা জামাল মিঞা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভাবে সড়কটি মেরামত না করায় স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে সড়কে চলাচলকারী অটো রিকশা থেকে চাঁদা তুলে মেরামত করা হলেও পাথর বোঝাই বড় ট্রাক চলাচল করায় আবারও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।’

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘তাদের অংশে এক কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। বরাদ্দ আসলে সেই সড়ক চলতি অর্থ বছরেই সংস্কার করা হবে।’

বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘দুই কিলোমিটার সড়ক এলজিইডি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করেছে। কিন্তু পৌরসভার বরাদ্দ না থাকায় দুই বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে এলজিইডি দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করেছিল। কিন্তু বর্তমানে এলজিইডির বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার করতে পারছে না।’

জন দুর্ভোগ চরমে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপাতত বালু খোয়া ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘তাদের অংশে ৯ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। ২০০৮ সালের পর ওই সড়কে বড় কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। এই সড়কটি চলাচল উপযোগী করতে হলে বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে। তবে গোলাবাড়ি বন্দরসহ অন্যান্য স্থানে সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়েছে আশা করা যায় এক মাসের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।’