ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের কাজে খুশি নন ওবায়দুল কাদের

৯:২৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২০ জাতীয়
kader

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার ডিটিসিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় যুক্ত হয়ে ওই অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সমীক্ষা আর সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া ডিটিসিএর আর কোনো কাজ হতে দেখেন না তিনি। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সংস্থা করোনাকালে উন্নয়ন কাজ চালিয়ে গেলেও ডিটিসিএতে ফাইলপত্রের কাজও এগোয় না বলে ভৎসনা করেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ফুটপাত নেই। পথচারীদের হাঁটার জন্য যে ফুটপাত, তা বেদখলে। পথচারীবান্ধব ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগটি এখনও সমীক্ষা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ। কবে শেষ হবে সমীক্ষা, কবে প্রকল্প নেওয়া হবে, কবে কাজ হবে জানি না। ডিটিসিএ শুধু সমীক্ষা আর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মধ্যে ঘুরপাক খায়।

ঢাকায় বাসের রুটের সংখ্যা কমিয়ে, প্রতি রুটে একটি মাত্র কোম্পানি বাস চালাতে ‘রেশনালিজেশন’ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় বছর ছয় আগে। ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুলের হকে মৃত্যুর পর এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটির তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকনকে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কয়েকটি সভা হলো, রেশনালিজেশনের কতদূর- এগুলো নগরবাসী এখনো দেখতে পেল না।

ডিটিসিএ’র বোর্ড সভায় নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জন্য ‘পরিবহন মহাপরিকল্পা’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বছর দুই আগে। চট্টগ্রামের মহাপরিকল্পনারও অগ্রগতি নেই। এতে ক্ষুব্ধ সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বলার মত অগ্রগতি নেই, একটি কাজ শেষ করতে না পারলে সফলতা কী।

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের বিমানবন্দর থেকে ঝিলমিল অংশের কাজ শুরু হলে পুরো শহর যানজটে অচল হয়ে পড়বে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। যানজট নিয়ন্ত্রণে ডিটিসিএ কী করছে তা জানতে চান। তিনি বলেন, মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের কারণে সড়ক সংকোচিত হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ দক্ষতার সঙ্গে যান চলাচলের ব্যবস্থাপনা করতে পেরেছে।

আইন করে ডিটিসিএ’র ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু তা কাজে লেগেছে কী না তা সংস্থাটির কর্মকর্তাদেরর কাছে জানতে চান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বহুতল ভবন নির্মাণে ‘ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স’ দেওয়ার ক্ষমতা ডিটিসিএকে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ পেয়েছেন ক্লিয়ারেন্স পেতে ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের।

ঢাকায় গণপরিবহনের ভাড়া পরিশোধে র‌্যাপিড পাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় প্রায় চার বছর আগে। কিন্তু তাতে অগ্রগতি নেই। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, র‌্যাপিড পাস ও ক্লিয়ারিং হাউসের কাজ দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘুরপাক খাচ্ছে, দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। উদ্বোধনের সময় বলা হয়েছিল, ‘সবাই এ কার্ড ব্যবহার করবে’। তাহলে এখন হচ্ছে না কেনো? তা ডিটিসিএ কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান মন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমানসহ সংস্থাটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।