সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘অসচেতনতা ও আইন সম্পর্কে না জানা সাইবার অপরাধের অন্যতম কারণ’

১১:০৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০ তথ্য জাদুঘর, ফিচার

রবিউল ইসলাম, সময়ের কণ্ঠস্বর- প্রযুক্তির সহজ লভ্যতার কারণে একদিকে যেমন বেড়ে চলছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা, সেইসাথে পাল্লা দিয়ে জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলছে সাইবার অপরাধও। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কেন্দ্র করে এ অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন।

কারণ,  স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের স্বল্পমূল্যের সুবিধায় ‘ফেসবুক’ এখন সবার আয়ত্তে। এই সুযোগে সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত ও অফিশিয়াল আইডি বা পেজ হ্যাক করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, আপত্তিকর স্ট্যাটাস, যৌন হয়রানি, পর্নোগ্রাফি, গুজবসহ আরও অনেক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তবে যারা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত, এদের সিংহভাগই হয়তো জানেন না তিনি যা করছেন সেটা ডিজিটাল নিরাপত্তায় বড়  ধরণের অপরাধ হিসেবে গণ্য। তবে এরজন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাবকে দায়ী করছেন পুলিশ।

সাইবার অপরাধের নানা বিষয় নিয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘সময়ের কণ্ঠস্বরের’ সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সিটিটিসির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রবিউল ইসলাম।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ বর্তমানে কারা বেশি সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন?

নাজমুল ইসলামঃ গড়ে প্রতিদিন আমাদের কাছে ১৫ থেকে ২০ জনের অভিযোগ আসে, তারমধ্যে ৯০ শতাংশ অভিযোগ নারীদের। তাদেরকে বেশি হয়রানি করা হয় ফেক আইডি খুলে, একাউন্ট হ্যাক করে, ছবি এডিট করে বা ডুপ্লিকেট ছবি আপলোড করার হুমকির মাধ্যমে।

তবে গত পাঁচ বছরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যাকড করে নেওয়া, অথবা ফিসিং লিংকের মাধ্যমে তথ্য চুরি করে নেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগই আমরা বেশি পেয়েছি। এছাড়া সাবেক বয়ফেন্ড কিংবা সাবেক হাজব্যান্ড কর্তৃক মেয়েদের ছবি নিয়ে পরে সেগুলো ফেক আইডির মাধ্যমে প্রকাশ করাসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ আসে আমাদের কাছে। সেইসঙ্গে বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা নেওয়া এবং অনলাইনে জঙ্গি বানানোর বিভিন্ন ফাঁদও পাতা হয়। তবে এসব বিষয়ে সাইবার পুলিশ সবসময় সচেতন রয়েছে।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ সাইবার হামলা থেকে নারীরা কিভাবে প্রতিকার পেতে পারে?

নাজমুল ইসলামঃ প্রথমত অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রত্যেককে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সাবধান হলে সাইবার হামলা ঠেকানো সম্ভব, তাই নারীদের সেটাকেই প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। যেমন আমি মনে করি ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য একেবারেই শেয়ার না করা। কারণ যাকে দিচ্ছেন সে যদি ভালোভাবেও নেয়, ঘটনাচক্রে ছবিগুলো থার্ড পার্টির হাতে যেতে পারে। তখন তারা সেগুলো খারাপভাবে ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া নিজের ফেসবুক একাউন্টগুলো ঠিক রাখতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনসহ সব সিকিউরিটি চালু রাখতে হবে। কোনো লিংক ঝামেলা মনে হলে সেখান থেকে এড়িয়ে চলতে হবে।

নাজমুল ইসলামের মতে যারা অপরাধ করছে তাদের মধ্যে বড় একটা অংশ রয়েছে যারা সাইবার আইন সম্পর্কে জানে না। যেমন একটা ১৮ বছরের ছেলে একজনের আইডি হ্যাকড করে ফেলল, অথচ সে জানেই না এটা একটা কত বড় অপরাধ।

তবে মূলকথা হচ্ছে, এরজন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দরকার। ফেসবুক ব্যবহার বিধিসহ সাইবার অ্যাথিকসগুলো জানতে ছেলে-মেয়েদের মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন আছে।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ কেউ অপরাধের শিকার হলে কিংবা ফেঁসে গেলে কি করবে?

নাজমুল ইসলামঃ প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারে সাইবার অপরাধের পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। তবে যারা এই অপরাধের শিকার হয় অবশ্যই তাদের উচিৎ প্রাথমিকভাবে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করা। সেটি হতে পারে মামলা, হতে পারে জিডি করা। আমরা পরামর্শ দেই আগে জিডি করুক, তারপর আমাদের কাছে আসুক। আমাদের কাছে আসলে আমরা জিডিটা দেখে তাকে কি ধরণের আইনগত সহায়তা অথবা অন্য কি ধরণের সহায়তা দেওয়া যায় সেটা আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেই।

ঢাকার বাইরের ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, যেহুতু আমরা ডিএমপির কর্মকর্তা, এজন্য ডিএমপি নিয়েই বেশি সচেতন থাকি। তবে ডিএমপির বাইরেও যারা অপরাধের শিকার হচ্ছেন তারা আমাদের ফোন করতে পারে, যতটুকু করা যায় আমরা সহায়তা করব। তাছাড়া লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়ার জন্য লোকাল থানা তো আছেই। প্রয়োজনে লোকাল থানার সঙ্গে কথা বলে সিআইডি, পিবিআই এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। সিআইডি পিবিআই এর এ বিষয়ে দক্ষ টিম আছে, তারা তাদের সহায়তা করতে পারবে।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ ফেসবুক কেন্দ্রীক কেন এতো অপরাধ?

নাজমুল ইসলামঃ বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেকগুলোই আছে এরমধ্যে ফেসবুক অন্যতম। এই মাধ্যমটি বর্তমানে সবার একটা প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহারকারীরা খারাপ এবং ভালো দুটো কাজেই ব্যবহার করে।

আমরা সাধারণত ফেসবুক ব্যবহার করি সামাজিক যোগাযোগের জন্যে কিন্তু অপরাধী চক্র বেছে নেয় অপরাধ সংগঠিত করার কাজে। যেহেতু বিশাল একটি জনগোষ্ঠি এ মাধ্যমটি ব্যবহার করছে সেখানে অপরাধ হওয়ার সম্ভবনাও বেশি থাকে। তবে নিজে সতর্ক থাকলে বা প্রতিটি মন্তব্য বা লিংকে ক্লিক করার আগে সতর্ক হলে অনেকাংশে নিরাপদ থাকা সম্ভব।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ উপজেলা পর্যায়ের থানাগুলোতে সাইবার পুলিশিং সেবা বা সাইবার থানার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে কিনা?

নাজমুল ইসলামঃ অবশ্যই সাইবার থানা প্রয়োজন। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে সাইবার থানা প্রতিষ্ঠা করার। তবে শুধুমাত্র ঢাকায় করলে হবে না, কারণ এখন ইন্টারনেট সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশের যে ফিলোসফি রয়েছে সেটাকে সামনে রেখেই প্রাযুক্তিক উন্নয়নটা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রাযুক্তিক অপরাধগুলোও বেড়ে যাচ্ছে। এই অপরাধটা শুধু এখন ঢাকায় নয়, সারাদেশেই হয়। তবে যেখানেই হোক না কেন, সেখানেই পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। আর পুলিশের অবকাঠামো বাড়ানোর জন্য অবশ্যই স্থানীয়ভাবে থানা ডেভেলপ বা পুলিশ ইউনিট তৈরি করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ সাইবার অপরাধের পরিধি বেড়েছে। কিন্তু সবাইকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা সাইবার ক্রাইম বিভাগের হয়েছে কি?

নাজমুল ইসলামঃ ডিএমপির জন্য আমরা যথেষ্ট মনে করলেও আসলে যথেষ্ট বলে কোনো শব্দ নেই, তাই তৃপ্তির ঢেকুর ফেলছি না। কারণ সাইবার অপরাধ দিন দিন তার রুপ চেঞ্জ করছে। তার পরিসংখ্যাও বাড়ছে, সেক্ষেত্রে সেই অনুপাতে আমাদের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে হবে। আর যেহুতু নতুন নতুন অপরাধ হয়, নতুনভাবে প্রশিক্ষণ ও জনবল বৃদ্ধিরও দরকার আছে।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ সাইবার অপরাধ তদন্তের জন্য যে প্রযুক্তিগত ও আইন প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ কিনা?

নাজমুল ইসলামঃ এই মুহূর্তে আমি মনে করি প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ আছে, আইনটাও যথেষ্ট ভালো রয়েছে। তবে আপনি হয়তো ভাবছেন নিরাপদ আছেন, আসলে এমনটা নয়। আজ ভালো আছেন, আগামীকাল কি হবে সেটা জানেন না, কাল নাও ভালো থাকতে পারেন। এই বিষয়টা ভেবেই আগাতে হবে। এজন্য আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিরও প্রয়োজন।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ ফেসবুক, গুগল কি চাহিদামতো পুলিশকে অপরাধীদের তথ্য দেয়?

নাজমুল ইসলামঃ যদি অপরাধ ঘটে সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়ে বা ইমার্জেন্সিভাবে ফেসবুক বা গুগলের কাছ থেকে আমরা তথ্য আনতে পারি। তবে সেই অনুপাতে তাদের থেকে তথ্যটা আমরা কম পাচ্ছি, যদিও দিন দিন এই তথ্য পাওয়ার হারটা বাড়ছে। সেক্ষেত্রে আমরা আরও আশাবাদি। আর কিছু ক্ষেত্রে ফেসবুক, গুগল যদি হেল্প না করে তখন নিজস্ব প্রাযুক্তিকভাবেও আমাদের সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারি।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ প্রতিদিন দেশে যে পরিমাণ সাইবার অপরাধ হচ্ছে, সে পরিমাণ অপরাধী আইনের আওতায় আসছে না কেন?

নাজমুল ইসলামঃ প্রথমত কথা হলো যারা ভিকটিম, তারা অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশে অভিযোগ করতে অনীহা প্রকাশ করে। যেমন আমি এখানে অভিযোগ পেয়েছি ২০ টা, কিন্তু সারা ঢাকা শহরে এর চেয়ে বেশি অভিযোগ আছে। হয়তো তারা অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছে না, অথবা ভুক্তভোগীরা  জানেনই না এ বিষয়ে কোথায় কিভাবে অভিযোগ করতে হয়। আবার অনেক ভিকটিম আছে যারা সামাজিক হয়রানির কথা ভেবে পুলিশকে অবহিত করতে চান না, কিন্তু আমাদের কাছে আসলে ভিকটিমের সম্পূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রেখেই সহায়তা করছি। সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।

তবে সব অভিযোই মামলা পর্যন্ত গড়ায় না বলেও জানান তিনি। বলেন, অনেকে আসে তার ফেসবুক আইডিটা কাজ করছে না, বা ঢুকতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে আমরা যদি ঢুকতে পারার ব্যবস্থাটা করে দেই, সে সেখানেই থেমে যায়। এছাড়া অনেক সময় অভিযোগ আসে, তার নামে ফেইক আইডি বানানো হয়েছে, আইডিটা বন্ধ করে দেন। সেটা আমরা বন্ধ করে দেই, এক্ষেত্রে ভিকটিম আর মামলা করেন না। আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, বিকাশের মাধ্যমে টাকা খুইয়েছেন। পরে টাকাটা যদি কোনোভাবে ম্যানেজ করে বলে কয়ে আনা যায়, তখন সে আর অভিযোগ করেন না।

এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলো মামলা পর্যন্ত যায় না। তবে আমি বিশ্বাস করি মামলা হওয়া উচিৎ। কারণ মামলা হলেই একমাত্র অপরাধীদের আমরা আইনের আওতায় আনতে পারি, আর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পারলেই অপরাধের এই প্রবণতা কমে যাবে।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ ফেসবুক-ইন্টারনেটে যারা গুজব ছড়ায় সবাইকেই কি চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়?

নাজমুল ইসলামঃ সব সময় হয় না। কারণ বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় চার কোটি। তো আপনি চাইলেই কিন্তু চার কোটিকে একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আনতে বা মনিটরিং করতে পারবেন না। আমরা কাজ করছি, সব সময়ই এটা নিয়ে সচেতন আছি। যেগুলো আমাদের নজরে আসছে, সেগুলোকে অবশ্যই আইনের মাধ্যমেই ট্যাকেল দিচ্ছি।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে সাইবার ক্রাইম ইউনিট কি আইডি ফেরত এনে দেয়?

নাজমুল ইসলামঃ হ্যাকিং এর কারণে আইডি ফেরত এনে দেওয়ার দায়িত্ব সাইবার ক্রাইম ইউনিটের নয়। কারণ ফেসবুক কারো আইডি ফেরত এনে দেওয়ার এখতিয়ার আমাদেরকে দেয়নি, এছাড়া আমাদের সঙ্গে ফেসবুকের এ রকম কোন চুক্তিও নেই। আমরা আসলে অপরাধ নিয়ে কাজ করি, যদি কারো আইডি হ্যাকড হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে যে হ্যাকড করেছে সে ক্রিমিনাল। তাকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য তৎপর থাকি। তবে অনেক সময় আমাদের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও আইডিগুলো ফেরত এনে দেওয়ার জন্য মানুষকে সহযোগিতা করি।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ অনলাইনে বিদেশি নাগরিকরা কিভাবে বাংলাদেশিদের ফাঁদে ফেলছে?

নাজমুল ইসলামঃ আফ্রিকা অঞ্চলের কিছু লোকজন বাংলাদেশের বিভিন্ন মানুষকে টার্গেট করে তারা ফেসবুকে বন্ধু বানিয়ে বা ইমেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। একপর্যায়ে দামি উপহার পাঠানোর কথা বলা হয়, পরে এয়ারপোর্ট থেকে আরেকজন কাস্টমস কর্মকর্তা সেজে তাদেরকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়।

আবার অনেকেই আছেন, যারা আমাদের দেশে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির সাথে জড়িত। এই চক্রের বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে আমরা গ্রেফতার করেছিলাম। এছাড়া অনেকেই বাংলাদেশে এসে ব্যাংক স্ক্যাম বা ই ট্রানজেকশনের সাথে জড়িত থাকে। তবে আমরা সবসময়ই সচেতন আছি এবং এই ধরণের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ সাইবার অপরাধের লাগাম পুলিশ টেনে ধরতে পেরেছে কি?

নাজমুল ইসলামঃ আমার কাছে মনে হয় পুলিশের তৎপরতার অভাব নেই বা তারা বসে আছে এমন না। আর অপরাধ প্রবণ শুধু বাংলাদেশে না, পৃথিবীর সব দেশেই অপরাধীরা অপরাধ করে যাচ্ছে। তো সেক্ষেত্রে লাগাম টেনে ধরাটা হয়তো সম্ভব না হলেও, হ্রাস করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ ব্যাপকভাবে কাজ করছে।

সময়ের কণ্ঠস্বরঃ বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে মানুষের মাঝে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অনেকের অভিমত! এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?

নাজমুল ইসলামঃ আমার কাছে মনে হয়না ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে ভয়ের কোন কারণ আছে। কারণ যেহেতু সাইবার ক্রাইমে কাজ করি, আমি মানুষের লিবার্টি নিয়েই থাকি। যারা ফেসবুকে কথা বলেন তাদেরকে আমরা কোনো ভয় দেখাইনা, অথবা কাউকে আইনের আওতায়ও নিয়ে আসিনি। কিন্তু লিবার্টি যখন অন্যের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে তখন অবশ্যই সেটা অপরাধ। আর যিনি এই কাজটা করছেন নিজের বিবেকবোধ থেকেই তার মনে ভয়টা কাজ করে। তবে যারা অন্যের লিবার্টিকে সম্মান করেন তার ক্ষেত্রে ভয়ের কিছু নেই, ইউ সুড গো এহেড।