• আজ বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ৷

অবশেষে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরলেন ২৫ বাংলাদেশি


❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ, রংপুর

ফয়সাল শামীম, স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলহাজতে বিনা দোষে চার মাস আটক থাকার পর মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন ২৫ বাংলাদেশি।

তারা সবাই কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্যাপারীপাড়া গ্রামের অধিবাসী।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টায় ভারতের কুচবিহার জেলায় অবস্থিত চ্যাংরাবান্ধা চেকপোস্ট হয়ে তারা বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত বুড়িমারী চেকপোস্ট দিয়ে দেশে আসেন। পরে তারা চেকপোস্টের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করে চিলমারীর উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এবং বাংলাদেশ-ভারত বর্ডার ভিকটিম রেসকিউ কমিটির আহ্বায়ক এসএম আব্রাহাম লিংকন জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ভারত সরকারের প্রসিকিউশন ওই বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফরেনার্স আইনে মামলা কল অফ (প্রত্যাহার) করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ আগস্ট সবপক্ষের আইনজীবীদের শুনানির পর ধুবড়ি আদালতের বিচারক জেলহাজতে আটক ২৫ জন বাংলাদেশিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেন। আর মামলাটি নথিজাত করার আদেশ দেন।

এরপর অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের চ্যাংরাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে চিলমারীর রমনা ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের অধিবাসী এবং রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় পরিষদের সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান নলেজ জানান, বৈধ পাসপোর্ট ও তিন মাস মেয়াদের ভ্রমণ ভিসা নিয়ে চিলমারীর ব্যাপারীপাড়া গ্রামের ২৬ জন অধিবাসী চলতি বছরের প্রথম দিকে আসাম রাজ্যের জোরহাট এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে যান।

এরপর করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে সেখানে আটকা পড়েন। এ অবস্থায় ভারতের দ্বিতীয় দফা লকডাউনের শেষ দিন ৩ মে কিছু সময়ের জন্য চেকপোস্ট খুলে দেয়া হবে এমন খবরের ভিত্তিতে বাড়ি ফেরার জন্য জোরহাট থেকে চেংরাবান্ধার উদ্দেশে রওয়ানা দেন তারা। কিন্তু পথিমধ্যে ধুবড়ি জেলার চাপোর থানা পুলিশ তাদের আটক করে। এ সময় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ফরেনার্স আইনে মামলা দিয়ে তাদের ধুবড়ি জেল হাজতে পাঠানো হয়েছিল।

তাদের মধ্যে বকুল মিয়া নামের একজন ধুবড়ি জেলহাজতে মৃত্যু বরণ করেন। ফলে অবশিক্ট ২৫ জন মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন।

মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন:- সাইফুল ইসলাম, ছবিয়ার রহমান, চাঁন মিয়া, আবুল ফরিশ, আনোয়ার হোসেন, রাজা মিয়া, মাইদুল ইসলাম, মানিক মিয়া, রেজাউল করিম, সহিদুল ইসলাম, নিরু মিয়া, হযরত আলী, আনারুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, নবিকুল ইসলাম, বিপ্লব মিয়া, এছানুল হক, আবু হানিফ, নুরুল হক, আবু বক্কর সিদ্দিক, আয়নাল হক, শাহ আলম, মো. হাফিজুর, আলম মিয়া ও ইউনুস আলী।