সংবাদ শিরোনাম
সিরাজগঞ্জে পুকুরে বিষ দিয়ে ৫ লাখ টাকার মাছ নিধন করল দুর্বৃত্তরা | টাঙ্গাইলে ছাত্র অধিকার পরিষদের মানববন্ধনে ছাত্রলীগের হামলা | জাতিসংঘকে দুর্বল করে এমন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমোদন দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী | এবার নুরের বিরুদ্ধে অপহরণ-ধর্ষণ ও ডিজিটাল আইনে মামলা | স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে জমি বিক্রি করে হাতি কিনে দিলেন স্বামী | কী কারণে ধরা হলো আর ছাড়া হলো বুঝিনি: ভিপি নুর | সিলেটের শ্রেষ্ঠ সার্কেল নজরুল ইসলাম, ওসি আব্দুল আহাদ | বেলকুচিতে যমুনা ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যু, রফাদফা করার অভিযোগ! | সিএমপির তিন কর্মকর্তাকে কক্সবাজারে বদলি | অবশেষে ছেড়ে দেওয়া হলো ভিপি নুরকে |
  • আজ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কোটালীপাড়ায় মৎস্য ও সবজি চাষীদের হাহাকার

১০:৩৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০ ঢাকা
kota

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় চলছে মৎস্য ও সবজি চাষীদের হাহাকার। এ উপজেলায় প্রায় ৩ সহস্রাধিক মাছের ঘের বন্যা ও ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে ঘেরের সমস্ত মাছ। নষ্ট হয়ে গেছে ঘের পাড়ে লাগানো সবজি ক্ষেত।

ধার দেনা করে ঘেরে মাছ ছেড়ে বিক্রির আগ মূহুর্তে সেই মাছ ভেসে যাওয়ায় এবং সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ সব মৎস্য ও সবজি চাষীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কিভাবে ধারের টাকা শোধ করবে তা ভেবে তাদের দিন কাটছে। বন্যা ও ভারী বর্ষনে এই উপজেলায় মাছ ও সবজিতে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় মৎস্য ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নেই ভেসে গেছে প্রায় সহস্রাধিক ঘেরের মাছ। নিন্ম জলাভুমি বেষ্টিত এ ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামে প্রায় ৩শতাধিক মাছের ঘের পানিতে ডুবে গেছে। এই গ্রামের অধিকাংশ জনগনেরই আয়ের উৎস মাছ ও সবজি। মাছ ও মাছের ঘেরপাড় সবজি ফলিয়ে তা বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। ঘেরপাড় পানিতে তালিয়ে যাওয়ায় এ সব সবজিও নষ্ট হয়ে গেছে। যার ফলে এসব চাষিরা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। ঘুরে দাড়াবার জন্য এ সকল চাষিরা ব্যাংক ঋণ মওকুফসহ নতুন করে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।

কুমুরিয়া গ্রামের বিনয় মন্ডল বলেন, ৭৫ বিঘা জমি নিয়ে আমি একটি মাছের ঘের করে ছিলাম। গত দুবছর ধরে এই ঘেরে মাছ চাষ ও ঘেরপাড় সবজি চাষ করছি। এই মাছ ও সবজি বিক্রি করে আমার সংসার চলে। এ বছর মাছ ও সবজি চাষ করতে আমার ৩০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।

‘ধার দেনা করে এ বছর মাছ ও সবজি চাষ করেছি। কিন্তু বন্যা ও ভারী বৃষ্টিতে মাছের ঘের ডুবে যাওয়ায় সমস্ত মাছ ভেসে গেছে। ঘের পাড়ের সমস্ত সবজির গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। আমি এখন কিভাবে সংসার চালাবো ও ধারের টাকা শোধ করবো? সরকার যদি আমাদের নতুন করে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ দেয় ও সার্বিক সহযোগিতা করে তাহলেই আমরা বেঁচে থাকতে পারবো।’

কলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রায় সহস্রাধিক ছোট বড় মাছের ঘের পানিতে ডুবে গেছে। ভেসে গেছে এ সকল ঘেরে সমস্ত মাছ। নষ্ট হয়ে গেছে ঘের পাড়ের সবজি ক্ষেত। এর মধ্যে কুমুরিয়া গ্রামে জনগনের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে। এই গ্রামের প্রায় ৩শত পরিবারে ঘেরে মাছ ভেসে গেছে। অধিকাংশ ঘের মালিকই ব্যাংক ঋণ ও ধার দেনা করে মাছ ও সবজির চাষ করেছে। সরকার যদি এদের সহযোগিতা না করে তা হলে ক্ষতিগ্রস্থ এসব জনগনের পথে বসতে হবে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, এ উপজেলায় প্রায় ৩ সহস্রাধিক মাছের ঘের বন্যা ও ভারী বর্ষণের ফলে ডুবে গেছে। অধিকাংশ ঘেরে মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রাথমিক ভাবে আমাদের হিসেব মতে ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিটুল রায় বলেন, বন্যা ও ভারী বর্ষণে আমাদের উপজেলায় প্রায় ৬ কোটি টাকার সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, মাছের ঘের গুলো ভেসে যাওয়ায় মৎস্য ও সবজি চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের সরকারী ভাবে সহযোগীতা করার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।