হত্যার উদ্দেশ্যেই ঘোড়াঘাট ইউএনও’র উপর দুর্বৃত্তদের হামলা

১১:০৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২০ রংপুর
uno

শাহ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকেঃ পরিকল্পিত হত্যার উদ্দেশ্যেই দিনাজপুরে ঘোড়াঘাট ইউএনও’র উপর দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছে আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা দলের বিশেষজ্ঞারা।

উপর্যোপরি হামলার পর ইউএনও ওয়াহিদা খানম মারা গেছেন তা অনুমান নিশ্চিত করেই দুর্বৃত্ত স্থান ত্যাগ করেছেন। এমনটাও ভাবছেন বিশেষজ্ঞ দল। বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওহাব ভুইয়া, পুলিশের ডিআইজি দেবদাশ ভট্টাচার্য, র‍্যাব-১৩ এর অধিনায়ক কমান্ডার লে.ক.রেজা আহমেদ ফেরদৌসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের উপর দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলার মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম। ইউএনও’র ভাই ফরিদ শেখ এই মামলার বাদি হবেন।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) ওয়াহিদা খানম (৩৫) আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ থেকে এয়ার এম্বুল্যান্স যোগে ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্সস এন্ড হোসপিটালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তোফায়েল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ইউএনওর মাথার বাম দিকে বেশি আঘাত লেগেছে। তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ধাতব কোনো বস্তু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তাঁর শরীরের ডান দিক অবশ হয়ে গেছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর বাবা চিকিৎসাধীন রয়েছে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ইউএনও’কে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটায় তাঁর সরকারি বাসভবনে। ১/২জন দুর্বৃত্ত মইয়ের সাহায্য ২য় তলার বাথ রুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে তাঁর বাসভবনে প্রবেশ করে। প্রথমে বাসায় অবস্থানরত নওগা থেকে আসা তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর শেখ(৭২)কে মারধর করে বাথরুমে আটকিয়ে রাখে৷

এর পর দুর্বৃত্তরা ইউএনও ওয়াহিদা খানম (৩৫)কে হাতুড়ি ধরনের কোন অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তবে কোন কিছু নিয়ে যায়নি।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রশাসনের ধারনা, ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে হত্যার উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালিয়েছে। তবে কি কারণে তা এখনো অনুমান করা যায়নি।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তদের ধরার প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শক করেছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (বিপিএম এবং পিপিএম বার)সহ প্রশাসনের উধর্বতন কর্মকর্তারা।

ইউএনও ওয়াহিদার স্বামী মো. মেজবাহুল হোসেন পাশবর্তী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

ঘটনার আগেই নৈশ্য প্রহরীকে বাসভবনেরএকটি ঘরে তালা দিয়ে আটকিয়ে রাখে। নিচতলার আরেকটি ঘরে কাজের মেয়েও ছিলো।

এদিকে এ ঘটনার পর ইউএনও’র বাসভবনে ঘরের মেঝে এবং বিছানায় তাজা রক্ত পাওয়া গেছে। প্রচুর রক্ত গেছে ইউএনও’র শরীর থেকে। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।