মুক্তিযোদ্ধা নাইকা মার্ডির স্বপ্নপূরণ

৮:১৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২০ রাজশাহী
muk

অসীম কুমার সরকার, তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা: দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে মনের গভীরে পুষে ছিলো এক টুকরো সোনালী স্বপ্ন। নিজের জায়গায় ছোট্ট একটা বাড়ি হবে। সেই বাড়িতে বউ-সন্তানদি নিয়ে সুখে-দুখে বসবাস করবে। কিন্তু বিধিবাম।

১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে লাড়াই করে দেশ স্বাধীন করেও তাঁর ভাগ্যে জুটেনি নিজের এক টুকরো জমি। আর বাড়ি তৈরি করা তো আকাশকুসুম কল্পনামাত্র। সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে লালন করেছেন একটি নিজের বাড়ি জন্য। দীর্ঘ ৪৮বছর ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন নিরবে, নিভৃতে।

বলছিলাম তানোর উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি সম্প্রদায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা নাইকা মার্ডিও কথা। যিনি দীর্ঘ ৩যুগ ধরে বিভিন্ন জনের কাছে মিনতী করেছেন নিজের নামে এখন্ড বসতবাড়ির জায়গার জন্য। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে যাচ্ছিল।

সম্প্রতি তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতোর বীর মুক্তিযোদ্ধা নাইকা মার্ডির বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ছুটে যান তাঁর বাড়িতে।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্যসামগ্রী তাঁর হাতে তুলে দেন। তাঁর বসতবাড়ির ৬শতক সরকারি খাস জমি তাঁর নামে ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত তিন লাখ টাকার একটি পাকা বাড়ী তৈরি করার সিদ্ধান্ত জানান।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরজমিন দেখা যায় নাইকা মার্ডির সেই স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে। তাঁর পাকা বাড়ি কাজ চলছে।

নাইকা মার্ডির বাড়ির জায়গা নিজ নামে ও পাকা বাড়ি পেয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে কতজনের হাত-পা ধরেছি। কতবার অফিসে গেছি কিন্তু সরকারি ৬ শতক বসতবাড়ির জায়গা আমার নামে করতে পারিনি। পাকাবাড়ি পাওয়া তো দূরের কথা!

‘ইউএনও সাহেব খুব ভালো মানুষ। আমার বাড়ি এসে খাওয়ার সামাগ্রী দিয়েছেন। বলেছিলেন, ভূমি অফিস থেকে জায়গা আমার নামে ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকার পাকা বাড়ি তৈরি করে দিবেন। আজ আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। বতসবাড়ির জায়গা ও পাকা বাড়ির কাজ হচ্ছে। ভাবতেই পারছি না। এতো দ্রুত পাকাবাড়ি পেয়ে যাবো।’

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘজীবী হোক। আমাদের মতো গরীব মানুষের জন্য তিনি বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছেন। ধন্যবাদ জানাই ইউএনও স্যারকে। যিনি আমাদের মতো গবীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’