প্রতিবন্ধী কিশোরীকে লাগাতার ধর্ষণে অন্ত:সত্ত্বা, ধর্ষক জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

১০:১১ অপরাহ্ণ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০ অপরাধ
dhorson

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে ৮ মাসের অন্ত:সত্ত্বা করার ঘটনায় অবশেষে সেই ধর্ষক লম্পটের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঝালকাঠি আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ আইনজীবি ফয়সাল খান রবিবার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে ধর্ষিতার পক্ষে তার ভাই মামলাটি দায়ের করে বলে জানান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নলছিটি থানাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে এ্যাডভোকেট ফয়সাল নিশ্চিত করেন। ধর্ষিতাকে ন্যায় বিচারে সর্বোচ্চ আইনী সহায়তা করবেন বলে জানান এ্যাডভোকেট ফয়সাল খান।

মামলা সূত্রে ও বাদীর আইনজীবি এ্যাডভোকেট ফয়সাল খান জানান, নলছিটি উপজেলার ২ নম্বর মগড় ইউনিয়নে এক বখাটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এতে ওই প্রতিবন্ধী কিশোরী ৮ মাসের অন্তসত্ত্বা হয়। ধর্ষক অভিযুক্ত লম্পট জিয়া হাওলাদার মগড় ইউনিয়নের রায়াপুর গ্রামের মৃত মোকছেদ হাওলাদারের ছেলে।

এই সংক্রান্তে গত ২২ জুলাই কিশোরীর পরিবারের দেওয়া একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও অদৃশ্য কারণে অসহায় ধর্ষিতার পরিবারকে নলছিটি থানা কোন আইনগত না করার গুরুতর অভিযোগ করেছে। এমনকি আদালতে পুলিশ মামলা না নেয়ার বিষয়টি হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন বলে বাদীর আইনজীবী জানান।

প্রতিবন্ধী কিশোরীর পরিবার সূত্রে আরো জানা গেছে, নলছিটি উপজেলার ২ নম্বর মগড় ইউনিয়নের পূর্ব রায়াপুর গ্রামের মোকসেদ হাওলাদারের মেয়ে হাসিনা তার বাসায় কাজ করানোর জন্য প্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাসা থেকে নিয়ে যায়। এর কিছুদিন পরেই লম্পট জিয়া তার বোন হাসিনার বাসায় যাতায়াত শুরু করে। এ সময় নারীলোভী লম্পট জিয়ার কু-দৃষ্টি পড়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীর ওপর। এতে ধীরে ধীরে লম্পট জিয়ার লালসার শিকারে পরিণত হয় বুদ্ধি প্রতবন্ধী কিশোরী। লম্পট জিয়ার লাগাতার ধর্ষণে অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই প্রতিবন্ধী কিশোরী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্ত:সত্ত্বা কিশোরীর পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে ৫ জনই বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। এবং লম্পট জিয়া হাওলাদারের ২ ভাই আফজাল ও স্বপন পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় মামলা করতে পারছে না। এমনকি প্রতিবন্ধী পরিবার হওয়ায় তাদেরকে কেউ আইনী সহায়তা দিতে এগিয়ে আসছে না।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, লম্পট জিয়া হাওলাদারের ২ভাই পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় নলছিটি থানা পুলিশ বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালানোর কারণে থানা পুলিশ দীর্ঘ দিনেও কোন আইনগত সহায়তা করেনি। এদিকে অসহায় পরিবারটির সকল সদস্য প্রতিবন্ধী হওয়ার সুবাদে তাদের নিকটাত্মীয় স্বজনের একটি পক্ষ সমঝোতার অস্ত্র ব্যবহার করে অর্থনৈতিক ফায়দা লুটতে ব্যস্ত রয়েছে কতিপয় দুষ্টু প্রভাবশালী মহল।

অবশেষে অসহায় পরিবারটি দীর্ঘদিন পর হলেও ঝালকাঠি স্বনামধন্য আইনজীবী এ্যাড. ফয়সাল খানের আইনী সহায়তায় ন্যায়বিচার পেতে আদালতের আশ্রয় নেয়। তবে প্রশ্ন রয়েছে অনাগত শিশুটির পিতৃ পরিচয় হবে কি?