আইএস নেতাকে বিয়ে করেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তানিয়া

৯:৪১ অপরাহ্ণ | সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০ আন্তর্জাতিক
isis

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একজন নেতার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তানিয়া জয়ার। সিরিয়ায় এক ভয়ানক জীবনের অভিজ্ঞতা শেষে এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন তিনি। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে লেখা এক নিবন্ধে সেই অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন জয়া।

তানিয়া ব্রিটেনে এক বাংলাদেশি পরিবারে বেড়ে উঠেন। ১৯৮৩ সালে উত্তর লন্ডনে এক বাংলাদেশি পরিবারে জন্ম তানিয়া জয়ার। ১৭ বছর বয়সে তানিয়া পরিবারের সঙ্গে পূর্ব লন্ডনে চলে যান। সেখানে তার জীবনের নতুন মোড় নেয়।

সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক বোন তানিয়ার উপর খুব বেশি প্রভাব ফেলেন। তার থেকে খেলাফত সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেন। অনলাইনে প্রচুর সৌদি ইসলামিক ফতোয়াও পড়েন। ২০০৩ সালে লন্ডনে ইরাক যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন তানিয়া। সেসময় একটি মুসলিম ডেটিং ওয়েবসাইটে জন জর্জেলাস নামে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার।

তানিয়া বলেন, ‘মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। সে ছিল বহুভাষী ছিল এবং খুব স্মার্ট। এমন কাউকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চাইছিলাম আমি।’ জন প্রথম লন্ডন সফরে এলে তাকে বিয়ে করেন তানিয়া। পরিবারের অনুশাসন থেকে বাঁচতে জনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। সেখানে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম নেয়।

কিছুদিনের মধ্যেই জন কট্টর আচরণ শুরু করে। ২০০৬ সালে ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপের ওয়েবসাইট হ্যাক করার অভিযোগে তার তিন বছরের সাজা হয়। কারাগার থেকে জন প্রবেশনে বের হওয়ার পর তিন সন্তানসহ আমরা কিছুদিনের জন্য মিশর ও পরে ইস্তাম্বুলে যাই। জন তখন সিরিয়ায় যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু তিন সন্তান নিয়ে আমি যুদ্ধাঞ্চলে যেতে চাইনি। জন আমাদের তুরস্কের আন্তকায় নেওয়ার কথা বলে সরাসরি সিরিয়ার সীমান্তে নিয়ে যায়।

তানিয়া লিখেছেন, সিরিয়ায় যাওয়ার পর ফোনে আমি জনের মাকে সব জানাই এবং এফবিআইয়ের এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলি। এফবিআই থেকে জানানো হয়, স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলে আমার বিরুদ্ধে চরমপন্থি সংগঠনে যোগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে না।

তানিয়া বলেন, সিরিয়ায় পানির কল থেকে কোনো পানি পাওয়া যেত না। কারণ বাসার ওপরে থাকা পানির ট্যাংকটিতে গুলি চালানো হয়েছিল। আমি ও আমার সন্তানেরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছিলাম। আমি সারাক্ষণ সন্তান হারানোর ভয়ে থাকতাম। জনের ওপর ক্ষোভ থেকে নিজের মুখ ঢাকতে অস্বীকার করি। এজন্য জন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। বন্ধুদের চাপে সে আমাদের ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। আমরা কয়েক মাইল হেঁটে, কাঁটাতারে ঘেরা গর্ত পেরিয়ে স্নাইপারের গুলির মুখে ট্রাকে উঠি। একজন তুর্কি আমাদের সাহায্য করে।

‘আমি বেঁচে ফিরতে পারায় কৃতজ্ঞ। আমি চেয়েছিলাম আমার সন্তানেরা ভালো জীবন কাটাবে, সুস্থ পৃথিবীতে ফিরে আসবে। ইসলামি স্টেটের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন জন। পাশ্চাত্যের অনেককে আইএসে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা ছিল তার। ২০১৭ সালে মার্কিন বোমা হামলায় তিনি মারা যান।’