সংবাদ শিরোনাম
আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধে নিহত বেড়ে ৮১ | নোয়াখালীতে ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশের ‘লাঠিপেটা’: আহত ১৮, আটক ৮ | ঋণের কিস্তি ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধ না করলেও খেলাপি নয় | আশুলিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ, মামলা তদন্ত করছে পিবিআই | রাজশাহীতে রোপা আমনের বাম্পার ফলনে আশাবাদী কৃষক ও কৃষি দপ্তর | এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় আসামি মাহফুজুর রহমান গ্রেফতার | গাজীপুরে পিবিআইয়ের অভিযানে অপহরণকারী চক্রের  ২সদস্য গ্রেফতার | সিলেট এবং খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের প্রতিবাদে গাজীপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ | শিল্পপতি হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে ভূমিমন্ত্রীর শোক | বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড দলকে অভিনন্দন জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী |
  • আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের স্বীকারোক্তি দিলেন মিয়ানমারের দুই সেনা

৯:২৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০ আন্তর্জাতিক
myanmar

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন মিয়ানমারের দুই সেনা সদস্য। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক টাইমস এবং কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন-সিবিসি ও একটি মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বীকারোক্তি দেয়া দুই সৈনিক হল– মিও উইন তুন (৩৩) ও জ নায়েং তুন (৩০)।

তারা জানিয়েছে, ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সৈনিকদের ওপর নির্দেশ ছিল ‘যাকে দেখবে তাকে গুলি করবে’। এ সময় তারা কীভাবে একে একে গ্রামের পর গ্রাম, গণকবর, হত্যা ও ধর্ষণ করেছে তার বর্ণনা দিয়েছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কর্তৃক হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিক থেকে পরবর্তী কয়েক মাস ধরে প্রায় দশ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

এর আগে ৭০এর দশক থেকে শুরু করে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নানা সময়ে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

তবে সবচেয়ে বড় ঢলটি ছিল ২০১৭ সালে। কক্সবাজারের উখিয়াতে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির বিশ্বের সবচাইতে বড় শরণার্থী শিবির। উখিয়াতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ছাড়িয়ে গেছে।

গত বছরের ১১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। মামলায় বলা হয়, মিয়ানমার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ এবং সাম্প্রদায়িক নিধন চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

পরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস- আইসিজে গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানিতে দেশের হয়ে লড়তে নেদারল্যান্ডসের হেগে যান অং সান সু চি। সেই বিচারকাজ এখনো চলছে।

মিও উইন তুন জানিয়েছেন, তিনি কর্মকর্তাদের আনুগত্য করেছেন। ৩০ জন রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যায় অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় সেল টাওয়ার ও সামরিক ঘাঁটির কাছে একটি গণকবর দিয়েছেন।

জ নায়েং তুন বলেন, আমরা প্রায় ২০ টি গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি। পরে শিশু ও বয়স্কদের মৃতদেহ একটি গণকবরে ফেলেছি। এই দুইজন হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে এসব কথা বলেন।

স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুধুমাত্র এই দুজন কমপক্ষে ১৫০ জন রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া কয়েক ডজন গ্রাম ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত।

এদিকে ফরটিফাই রাইটসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই স্বীকারোক্তির ফলে ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুই সৈনিক কোর্টের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ভবিষ্যতে মামলায় কাজ করবে।