সংবাদ শিরোনাম

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, ত্যাগের মহিমায় জীবন সাজান: কাদেরআল্লাহ’র সঙ্গে শিরক, নিষিদ্ধ হলো তুরস্কের বিখ্যাত ‘ইভিল আই’ তাবিজক্ষমা চাইলেন এমপি একরামুলএবার এসএসসি-এইচএসসিতে অটোপাস সম্ভব নয়: শিক্ষামন্ত্রীবাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দনসৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়ক থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারনন্দীগ্রামে আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতারশাহজাদপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের অর্থায়নে পাকা ঘর পাচ্ছে প্রতিবন্ধী দম্পতিবাংলাদেশে পরীক্ষা চালানোর জন্য ২০ লাখ টিকা দিয়েছে ভারত: রিজভীফরিদপুরের ভাঙ্গায় ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ: ২ স্কুলছাত্র নিহত

  • আজ ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রংপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রলীগ, ৬ বছর ধরে সভাপতি রনি

◷ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন ৷ বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর
Iag0

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর- কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ৫ বছর আগে, তারপরেও সেই কমিটি বাতিল না করে তাদের দিয়ে চলছে ছাত্রলীগ। কমিটি গঠনের পর বিগত ৬ বছরে হয়নি কার্য নির্বাহী কমিটির কোন সভা এমনকি পরিচিতি সভাও হয়নি। কারা কারা কমিটিতে আছেন তাও জানেন না ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী।

রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষিকা ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করার পর বেরিয়ে আসছে ছাত্রলীগের ক্ষমতাধর রনি ও তার সহযোগীদের নানান অপকর্ম। টেন্ডারবাজি নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানান অপকর্ম করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন রনি।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর রংপুর জেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিল ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের দিন ৮ ডিসেম্বর তারিখে মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনিকে সভাপতি, রাকিব হাসান কাকনকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষণা করা হয় ছাত্রলীগের জেলা কমিটি। এরপর দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এ ঘটনায় সাধারণ নেতাকর্মীরা বার বার দাবি করার পরেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

৪ বছর পর সভাপতি রনির পছন্দের বেশ কয়েকজনের নাম মুখে মুখে বলে দেয়া হয় অমুক অমুক নেতাকে বিভিন্ন পদ দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দীর্ঘ ৭ বছরে গণমাধ্যমেও প্রদান করা হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সুমন সরকার অভিযোগ করেন সম্মেলনের পরের দিন সভাপতি সম্পাদকসহ ৮টি পদের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তারপর বিগত ৭ বছরে আমরা জানি না কারা কারা কোন পদে আছেন বা কাদের কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় আজ পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিচিতি সভা হয়নি এমনকি কার্যকরী কমিটির সভাও ডাকা হয়নি। ছাত্রলীগের কর্মকান্ড ছিল ওয়ান ম্যান শো রনি মার্কা ছাত্রলীগের। ফলে বিভাগীয় নগরী ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্য অহঙ্কার সব ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে, এখন কাগজ কলমে ছাত্রলীগের কর্মকান্ড চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর রনির কাজ ছিল বড় বড় আমলাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া বক্তৃতা দেয়া নিজের পরিচিত শো করে নিজের বাণিজ্য প্রসারিত করা। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে খাতির লাগিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেয়া। প্রতিবাদ করলেই তার নিজস্ব বাহিনী লেলিয়ে দেয়া হতো, ফলে এতদিন কথা বলার সাহস হয়নি কারও।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের কোতয়ালী থানায় রংপুর নগরীর কেরানী পাড়ায় বসবাসকারী একজন প্রাথমিক শিক্ষিকা মুক্তিযোদ্ধা কন্যা বাদী হয়ে রনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় রনির সহযোগীরা গা ঢাকা দেয়ায় পুরো বিষয় সামনে আসে।

এদিকে, রংপুর জেলার ৮টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভা থাকলেও ২/১টি ছাড়া কোথাও ছাত্রলীগের কমিটি নেই দলের কোন কর্মকান্ড নেই। ফলে পুরো জেলায় ছাত্রলীগ এখন অকার্যকর সংগঠনের পরিণত হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অভিযুক্ত রনির নিজ এলাকা পীরগজ্ঞ উপজেলায় ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই কয়েক বছর ধরে। কমিটি না থাকলেও কিছু নিবেদিত প্রাণকর্মী নেতৃত্ব ছাড়াই দলের কর্মকান্ড করছেন বলে জানা গেছে।

বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক টুটুল চৌধুরী অভিযোগ করেন, গত ১০ বছর ধরে বদরগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রলীগের কমিটি নেই। অনেকবার বলার পর জেলা ছাত্রলীগের নেতারা সম্মেলন কাউন্সিল করার কোন পদক্ষেপ নেননি।

তারাগঞ্জ উপজেলায় ৬ বছর আগের কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রলীগের কর্মকান্ড। সভাপতি রাকিবুল ইসলাম একটি মাদ্রাসায় প্রভাষকের চাকরি করেন সম্পাদক আশিকুর রহমানও একটি বিয়াম কলেজের প্রভাষক দু’জনেই বিয়ে করেছেন বেশ আগে তাদের সন্তান আছে।

মিঠাপুকুর উপজেলায় ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই কর্মকান্ড নেই। পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলায় ছাত্রলীগের কমিটি আছে বলে দাবি করা হয়। তবে বদরগজ্ঞ, হারাগাছ ও পীরগজ্ঞ পৌর ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই বলে জানা গেছে।

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কানন বলেছেন, ছাত্রলীগের দৃশ্যমান কর্মকান্ড আছে, কেউ অপরাধ করলে তদন্ত করে যাই পাওয়া যাবে সেভাবে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন এতে আমাদের বলার কিছু নেই।

তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রনির সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা ছাত্রলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হবার পর দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তারা বলেন, একজনের অপরাধের দায় পুরো দল বহন করবে কেন? তারা অবিলম্বে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে কঠোর পদক্ষেপ নেবার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে মামলার ৪ দিন অতিবাহিত হবার পরেও পুলিশ অভিযুক্ত রনিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ওসি আবদুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।