• আজ শুক্রবার, ১৫ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ জুলাই, ২০২১ ৷

কোর্ট লাগবে না, সংসদ নেতা বললে পদত্যাগ করব: হারুন


❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভূমিদস্যুদের করা মামলায় নাজেহাল বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ। আজ বুধবার সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৪ এর ব্যক্তিগত কৈফিয়ত চেয়ে বক্তব্য প্রদানকালে এমন অভিযোগ করেন তিনি। তিনি সংসদকে জানিয়েছেন, সংসদ নেতা চাইলে পদত্যাগ করবেন।

বুধবার দুপুরে সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৪ এর ব্যক্তিগত কৈফিয়ত চেয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় গাড়ির শুল্ক নিয়ে মামলার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। বলেন, এই মামলায় আমাকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। সঙ্গে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আপিল বিভাগে আপিলের পর সেটি স্থগিত ছিল, আবার কে যেন রিট পিটিশন করেছে। কেন আমাকে এভাবে বিব্রত করা হচ্ছে? মিডিয়ায় বলছে, এই মাসেই আমার সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে। আমাকে কোর্ট থেকে কিছু করতে হবে না। সংসদ নেতা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বললে আমি পদত্যাগ করে চলে যাব। আমাকে ফেবার করতে হবে না।

স্পিকারকে উদ্দেশে এমপি হারুন বলেন, আপনি আমাদের সংসদের অভিভাবক। আমরা এখানে ৩৫০ জন সংসদ সদস্য আছি। ৩৫০ জনের মধ্যে ৩৪২ জনই হচ্ছে মহাজোটের শরিক। আর আমরা ৭ জন বিএনপির, একজন গণফোরামের। আমরা ৮ জন মিলে বিরোধী দল। এখানে সংসদ নেতা আছেন। আমি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল স্পিকারের কাছে একটি আবেদন দিয়েছিলাম। গত বছরের ৪ এপ্রিল আমার এলাকায় আমাকে, আমার বড় বোন ও আমার ভগ্নিপতিকে আসামি করে জাল-জালিয়াতির একটি মামলা দায়ের করা হয়। গত বছর এপ্রিল মাসে করা মামলা দীর্ঘদিন যাবৎ ওইভাবেই পরে থাকে। আজ ১৮ মাস হয়ে গেছে।

এমপি হারুন বলেন, আমি যে বিষয়ের সঙ্গে অপরাধী নই, কেন আমাকে নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে। আমার বোন প্রায় ষাটোর্ধ বয়সের, ভগ্নিপতির বয়স ৭০ বছর। এক মাস পর পর তাদের হাজিরা দিতে হচ্ছে। আমি বার বার তাগাদা দিচ্ছি, আমি কোনো ফেবার চাই না। যা তদন্ত করে পাও তুমি রিপোর্ট দাখিল কর। এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টিতে নিয়ে আসছি। ওনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুঃখটা এই কারণে, গতকাল যখন অধিবেশন শেষ করে গেলাম, বিকাল ৪টার দিকে তখন আমার জেলার একজন এসআই বলল স্যার আপনার মামলাটি থানা থেকে সিআইডিতে স্থানান্তর করে দিচ্ছি। ১৮ মাস ধরে কেন মামলাটি ফেলে রাখল? এটি তো ১৮ মাস আগেই সিআইডিতে দিতে পারত। এটা তো সিআইডিতে দেয়ার মতো মামলা নয়।

তিনি বলেন, আমি যে এলাকার এমপি, আমি আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা, সেখানে আমি প্রতিকার পাব না? আমাকে কেন হয়রানি করা হবে। একটি মামলা ১৮ মাস ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে? কেন? যে তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি ঝুলিয়ে রেখেছে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন