• আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করায় ঢাবি অধ্যাপক চাকরিচ্যুত

১০:৫৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন
duuu

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বুধবার সিন্ডিকেটের এক সভায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের দেওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘চাকরি থেকে অব্যাহতি’ কথার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি থেকে অব্যাহতি বলতে তিনি (মোর্শেদ হাসান) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে থাকতে পারবেন না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি শেষে শিক্ষক হিসেবে যে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার কথা, তা তিনি পাবেন।

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক।

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ নামক এক নিবন্ধে লেখেন, ‘আওয়ামী নেতাদের বেশিরভাগই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের পরিবার-পরিজনসহ ভারতে চলে গেলেন এ দেশবাসীকে মৃত্যু ফাঁদে ফেলে দিয়ে নেতৃত্বহীন অবস্থায়। যাকে ঘিরে এ দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখত সেই শেখ মুজিবুর রহমানও। জাতির এ সঙ্কটকালীন মুহূর্তে ত্রাতারূপে আবির্ভূত হন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। দেশপ্রেমের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত এই টগবগে যুবকের কণ্ঠে ২৬ মার্চ রাতে বজ্রের মতো গর্জে ওঠে স্বাধীনতার ঘোষণা। স্বাধীনতার ডাক এসেছিল শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর, তার আগে নয়। আমার জানা মতে, তিনি কোনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।’

এ লেখা প্রকাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। পরে ২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেন।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরপর তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আইনি সুপারিশের জন্য ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে দায়িত্ব দেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

এদিকে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি চিঠি লেখেন।