সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জেসিসি বৈঠক শুরু | করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৪৮৮ | পানি কমতেই টাঙ্গাইলের বিভিন্ন গ্রামে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ও এইচএসসি নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী | ইউএনওর ওপর হামলায় রবিউল জড়িত নয়, দাবি পরিবারের | মাদারীপুরে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের ছোবলে কাতার প্রবাসীর মৃত্যু | রংপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় স্বামীর মৃতুদন্ড, সহযোগীর যাবজ্জীবন | তারানা হালিমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজ | নুরদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি | সীমান্ত সুরক্ষা: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২২৯০ কোটি টাকার অস্ত্র কিনছে ভারত |
  • আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের সঠিক পথে রয়েছে’

৯:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০ জাতীয়
pori

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ‘বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের সঠিক পথে রয়েছে’ বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি কর্মপরিবেশ সবসময় বজায় থাকে, তাহলে আমরা অনেক ভালো করতে পারব।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সভাকক্ষে ‘রুপকল্প ২০৪১ বাস্তবে রূপায়ন: বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১’ বিষয়ক জন অবহিতকরণ আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ সভার আয়োজন করে।

প্রেক্ষিত পরিকল্পনাকে ‘ভবিষ্যত দলিল’ অভিহিত করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এই পরিকল্পনা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং অমিত এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে গত ১২ বছরে দেশে বিভিন্ন ইতিবাচক পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা সুন্দর সময় পার করছি এবং আশা করি সেটা অব্যাহত থাকবে। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে আমরা এখন যে কোভিড-১৯ মহামারীর মুখোমুখি, তা অতিক্রম করতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সেরা পরিকল্পনা গ্রহণকারী দেশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি), প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও ব-দ্বীপ পরিকল্পনার মতো ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

সভায় পরিকল্পনা কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম জানান, রুপকল্প ২০৪১ সাল বাস্তবায়িত হলে মাথাপিছু আয় সাড়ে ১২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এইসময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে নয় দশমিক নয় শতাংশে। এছাড়া ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে চরম দারিদ্র্যের অবসান এবং আর ২০৪১ সালের মধ্যম দারিদ্রের হার ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ২০৩১ সালের মধ্যে ১ শতাংশে নিয়ে আসা এবং ২০৪১ সাল পর্যন্ত এই হারই ধরে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান শামসুল আলম।

এছাড়াও প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় (২০২১-২০৪১) মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, দেশের মানুষের সম্ভাব্য আয়ু ২০৩১ সালের মধ্যে ৭৫ বছর এবং ২০৪১ সালে ৮৩ বছরে নিয়ে যাওয়া। মাতৃমৃত্যুর হার ২০৩১ সালে প্রতি লাখে ৭০ জন এবং ২০৪১ সালে তা কমিয়ে ৩৬ জনে নিয়ে আসা। শিশুমৃত্যুর হার ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতি হাজারে (জীবিত জন্ম) ১৫ জনে নিয়ে আসা ও ২০৪১ সালে তা চারজনে নিয়ে আসা।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতার হার ২০৩১ সালের মধ্যে শতভাগ নিশ্চিত করা এবং তা ২০৪১ সাল পর্যন্ত ধরে রাখা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ২০৩১ সালের মধ্যে শতভাগ নিশ্চিত করা এবং তা ২০৪১ সাল পর্যন্ত ধরে রাখা। প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়ার হার ২০৩১ সালের মধ্যে শূন্যে নিয়ে আসা এবং ২০৪১ পর্যন্ত তা ধরে রাখা।

উচ্চশিক্ষার হার ২০৩১ সালে ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ নিশ্চিত করা। উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীদের শতকরা ভাগ ২০৩১ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করা এবং ২০৪১ সাল পর্যন্ত তা ধরে রাখা। টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষায় ভর্তির হার ২০৩১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ করা এবং ২০৪১ সালে তা ৪১ শতাংশ করা। শিক্ষায় জনসাধারণের ব্যয় ২০৩১ সালে মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা এবং ২০৪১ সালে ৪ শতাংশ করা।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস’সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।