টুইন টাওয়ার হামলার ১৯ বছর, কী ঘটেছিল সেদিন?

১০:৫১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০ জানা-অজানা
tewen

জানা-অজানা ডেস্কঃ আজ নাইন-ইলেভেন। ইতিহাসের সেই বীভৎস দিন যেদিন টুইন টাওয়ার ধ্বংস করা হয়েছিল। ২০০১ সালের এই দিনে আত্মঘাতী বিমান হামলায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ার।

কে বা কারা ওই হামলা চালিয়েছিল তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়দাকে দায়ী করে আফগানিস্তান ও ইরাকে গণহত্যা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনার প্রায় ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও পৃথিবীব্যাপী ওই বীভৎসতার রেশ এখনও রয়ে গেছে।

৪টি বিমান ওই হামলায় অংশ নিয়েছিল। দুটি বিমানের লক্ষ্য ছিল নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ার। অন্য একটি বিমান আঘাত হেনেছিল পেন্টাগনে, যেটির অবস্থান ওয়াশিংটনের ঠিক বাইরেই। আর চতুর্থ বিমানটি আছড়ে পড়েছিল পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে।

এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন ৬ হাজারের বেশি মানুষ। ‘নাইন-ইলেভেন’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও কঠোর হয় যুক্তরাষ্ট্র, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় বিশ্ব রাজনীতির গতিপ্রকৃতি।

হামলা চালানোর আগে সকাল ৮টা ১৯ মিনিটে একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট সতর্ক করেন, তাদের উড়োজাহাজ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছে। ককপিট থেকে কোনো উত্তর আসছে না এবং ছিনতাইকারীদের কাছে বিস্ফোরক রয়েছে। এছাড়া জানানো হয়, এক যাত্রীসহ দুজন অ্যাটেনডেন্টকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

পরে জানা যায়, হামলার শিকার হওয়া ওই যাত্রীর নাম ড্যানিয়েল লেউইন। তিনি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি এবং নাইন-ইলেভেনের হামলায় তিনিই প্রথম ভুক্তভোগী।

হামলার বিষয়টি ঠিকমতো বুঝে না উঠতেই ১৭ মিনিট পর ৯টা ৩ মিনিটে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ ভবনে আছড়ে পড়ে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট-১৭৫। সেটিও বোস্টন থেকে উড়ে এসে হামলা চালায়। পরে জানা যায়, উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের পরই একজন অ্যাটেনডেন্ট ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, উড়োজাহাজ ছিনতাই হয়েছে এবং দুজন পাইলটই নিহত হয়েছেন। তবে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েও শেষরক্ষা হয়নি।

এছাড়া একটি বিমান পেনসিলভেনিয়া স্টেট ও অপরটি ভার্জিনিয়া স্টেটে বিধ্বস্ত হয়। বলা হয়, হোয়াইট হাউসে একটি বিমান বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা, কিন্তু তা পেনসিলভেনিয়ায় ভেঙে পড়ে। টুইন টাওয়ারের ঘটনায় ২ হাজার ৯৯৭ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ২ হাজার ৭৫৩ জনের ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল, বাকিদের পরিচয় মেলেনি।

নাইন-ইলেভেন হামলার পর ২০ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসে এক ভাষণে জর্জ ডব্লিউ বুশ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, কিন্তু এখানেই তা শেষ হবে না। সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পতনের আগে এ লড়াই শেষ হবে না।’

অন্যদিকে, নাইন-ইলেভেনের হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। হামলার পর প্রথম দিনেই নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধস নামে। এক মাসেই চাকরি হারান ১ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ। ধারণা করা হয়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় আনুমানিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্ষতি হয়েছিল।

এ হামলার দু’দিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে সতর্ক করেছিলেন। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেননি।