সংবাদ শিরোনাম
সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন বাবা: ইউরিয়া খেয়ে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্ঠা! | আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর রোগমুক্তি কামনায় দোয়া-মোনাজাত | লাশের মিছিল বেড়েই চলেছে, তবুও আলোচনায় নারাজ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান | বাংলাদেশের সাথে বন্ধ থাকা স্থলবন্দর খুলে দিতে ভারতকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধ | কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ’র মৃত্যুতে দেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক | ইয়াবা দিয়ে ‘ফাঁসাতে’ গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন এএসআই | কাল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন ইউএনও ওয়াহিদা | খালেদার যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে চান ডিকসন | আবারো দলকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান মেসির | গোবিন্দগঞ্জে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ |
  • আজ ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রাম মানচিত্র থেকে মুছে দিয়েছে মিয়ানমার: জাতিসংঘ

৭:৫৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০ আন্তর্জাতিক
myan

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করে ফেলা গ্রামগুলো বর্তমান মানচিত্র থেকেও মুছে ফেলছে। কৃত্রিম উপগ্রহের পাঠানো ছবির মাধ্যমে সংস্থাটি নিশ্চিত হয়েছে যে, তিন বছর আগে কান কিয়া নামক রোহিঙ্গা গ্রামটির মতো ধ্বংস করে ফেলা অন্তত এক ডজন রোহিঙ্গা গ্রামের নাম বর্তমান মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।

বিষয়টি জানিয়েছে জাতিসংঘের ম্যাপিং ইউনিট। তারা বলেছে, গত বছর মিয়ানমার সরকার দেশের নতুন যে মানচিত্র তৈরি করেছে সেখানে কান কিয়া গ্রামের অস্তিত্ব নেই। মানচিত্র থেকে গ্রামটির নাম ‍মুছে ফেলা হয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত নদী নাফ নদী থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কান কিয়া গ্রামে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম বাস করতেন। ২০১৭ সালে পুরো রাখাইন জুড়ে রোহিঙ্গা নিধনের ধ্বংসযজ্ঞ চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। এ সময় ঐ গ্রামকে আগুনে পোড়ানো হয়। চালানো হয় বুলডোজারের তান্ডব। সে সময় প্রাণে বাঁচতে গ্রামের হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

গ্রামটিতে এখন দেশটির সামরিক ও সরকাররি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পুলিশের নজরদারির জন্য দেওয়া হয়েছে কাঁটা তারের বেড়া। এমনটি দেখা যায় ‘গুগল আর্থ’ ম্যাপে। রয়টার্স এমন কিছু ছবি প্রকাশও করেছে। মিয়ানমারে জাতিসংঘের ‘ম্যাপিং ইউনিট’ ২০২০ সালে দেশটির নতুন ম্যাপ বানিয়েছে। মিয়ানমারের সরকারি মানচিত্রের ভিত্তিতে জাতিসংঘের ‘ম্যাপিং ইউনিট’ নিজেদের ম্যাপ তৈরি করে। জাতিসংঘের অধীনে নানা সংস্থা ওই ম্যাপ ব্যবহার করে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে ঐ জায়গাটিকে নিকটবর্তী মংডু শহরের অন্তর্ভূক্ত বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

রাখাইন রাজ্যে কান কিয়া গ্রামের মত অন্তত চার শত গ্রামকে ধ্বংস করা হয়েছে। এমনটি বলছে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’। সংস্থাটি ভূ-উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে। ধ্বংস করা গ্রামগুলোর মধ্যে অন্তত এক ডজন গ্রামের নাম এখন মানচিত্র থেকেও মুছে দেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সরকার রাখাইনে সন্ত্রাস দমনের নামে ওই অভিযান চালালেও জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ওই অভিযানকে জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেছে। রাখাইনে সেনা অভিযানের সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেয়। ওই শরণার্থীদের বর্ণনায় সাধারণ মানুষের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নিপীড়নের চিত্র ফুটে ওঠে।

সম্প্রতি, মিয়ানমারের দুই সেনা সদস্য দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে রাখাইনে গণহত্যার উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলায় মিয়ানমারের বিরদ্ধে রাখাইনে গণহত্যার অভিযোগে শুনানি চলছে।