• আজ ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইউএনও’র উপর হামলার মূল আসামি আসাদুল না রবিউল?

৭:৪০ অপরাহ্ণ | শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০ রংপুর
asam

শাহ্ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকেঃ ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলাকারী মুল আসামি আসাদুল না রবিউল এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলায় জড়িত স্বীকার কথা স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেফতার হওয়া ইউএনও’র বাসার মালি রবিউল ইসলাম ফরাস।

দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানিয়েছেন রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। এই হামলায় ব্যবহত হাতুড়ি এবং মঈ স্বীকারোক্তি মতো উদ্ধারও করা হয়েছে।

এদিকে এই মামলায় আজ শনিবার বিকেল ৫ টায় রবিউল ইসলাম ফরাসকে সিনিয়র জুটশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন এর আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি’র ওসি ইমাম আবু জাফর। বিচারক পর্যালোচনা শেষে ৬ দিনের রিমান্ড আদালত মঞ্জুর করেছে।

অন্যদিকে ইউএনও’র উপর হামলার মামলার প্রধান আসামী যুবলীগৈর বহিষ্কৃত নেতা আসাদুল হককে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে আজ শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়।

এই ঘটনায় প্রথম গ্রেফতারকৃত আসাদুলের স্বীকারোক্তি মতো র‌্যাব-১৩ ঘটনার দু’দিন পর ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধায় তাদের সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিং এ জানায়, ইউএনও ওয়াহেদা খানমের উপর হামলার ঘটনা নিছক চুরির ঘটনা থেকে। চুরি করতে বাধা দেয়ায় চোর আসাদুল হক এবং তার ওপর দুজন সঙ্গী নবীরুল ইসলাম এবং সান্টু কুমার এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সেই সময় আসাদুলের স্বীকারোক্তি মতো ঘটনার সময় সিসিটিভি ফুটেজে পরিহিত আগন্তকের লাল রঙের টিশার্ট উদ্ধার করা হয়েছে আসাদুলের বাড়ি থেকে।

শুধু তাই নয় আসাদুলের স্বীকারোক্তি মতোই রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম এবং সান্টু কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ৩ জনকে আদালতের মাধ্যমে ৭ দিন করে প্রত্যেককে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। কিন্তু মামলার কোন অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ে পুলিশ। ফলে ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে কমপক্ষে কুড়িজনকে আটক করা হয়। অধিকাংশকেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

তবে সিসিটিভি ফুটেজ এবং চলনের গতি এবং চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সন্দেহের জালে পড়ে রবিউল ইসলাম ফরাস। ফরাসের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলা বিজোড়া ইউনিয়নের বিকোড়া গ্রামে। তার বাবা নাম খতিব উদ্দিন। বৃহস্পতিবার গ্রেফফতার হওয়া রবিউল ইসলাম ফরাস অবশেষ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ তার স্বীকারোক্তি মতো এশটি পুকুর থেকে হামলার অস্ত্র হাতুড়ি এবং ব্যবহত মই উদ্ধার করেছে।

তাই মামলাটি’র অগ্রগতির আশার আলো দেখছে পুলিশ। পুলিশের আইজিপি’র পরামর্শে পুলিশ এই মামলারটির অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। আজ বিকেলে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্রাচার্য জানালেন, রবিউলের স্বীকারোক্তি মতে এই ঘটনাটি সে ঘটিয়েছে। তার কথা মতো হামলায় ব্যবহত হাতুড়ি ও মই উদ্ধারও হয়েছে। তাই আসামি রবিউলকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

যেহেতু এই মামলার বাদি ইফনও’র ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন নিদির্ষ্ট আসামীর নাম উল্লেখ করেনি। একারণে মামলার প্রধান আসামী পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিউল ইসলামকে আজ আদালতে রিমান্ড চেয়ে হাজির করার সময় এশটি নির্দেশিকা আবেদন দিয়েছে। সেখানে প্রধান আসামী হিসেবে এখন স্বীকারোক্তি মতো ররিউল ইসলার ফরাসেই হচ্ছে।

তাই রবিউল ইসলাম ফরাসকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণের আগে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। প্রেস ব্রিফিং এ রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য ছাড়াও দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিপিএম এবং পিপিএম (বার), ইউএনও ওয়াহিদা খানম হত্যা প্রচেষ্টা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম আবু জাফর সহ অন্যান্য পুলিশ ককর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ৫০ হাজার টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনায় মালি রবিউল ইসলাম ফরাসকে ৪ মাস আগে সাময়িক বরখাস্ত করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে রাখা হয়।

সিসিটিভির ফুটেজ এবং সাময়িক বরখাস্ত ঘটনার বিবেচনায় মালি রবিউল ইসলাম ফরাসকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরে স্বীকারোক্তি জজবানবন্দীতে সে ঘটনার সবকিছু জানায়।

জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রবিউল ইসলাম ফরাস ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে ২০১৯ সালের শেষে অস্থায়ী মালি হিসেবে নিয়োগ পায়। ৪ মাস আগে মালি রবিউল ইসলাম ফরাস ইউএনও ওয়াহিদার বাসা থেকে একটি লাগেজ ইউএনও কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার সময় সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা খোয়া যায়।

এ ঘটনাটি ইউএনও ওয়াহিদা জেলা প্রশাসককে জানালে জেলা প্রশাসক মালি রবিউল ইসলাম ফরাসকে সাময়িক বরখাস্ত করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। ফরাসের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিজোড়া গ্রামে।

প্রসঙ্গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ওয়াহিদা খানম এবং তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের উপর হামলা করে হত্যার প্রচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা।

এঘটনায় আহত দু’ জনকেই রংপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ইউএনও ওয়াহিদাকে এয়ার এম্বুল্যান্স করে নেয়া হয় ঢাকার নিউরোসাইন্স মেডিকেল হাসপাতালে। এর পর জরুরি ভিত্তিতে করা হয় অস্ত্রোপচার। এখনো তিনি সেখানে চিকিৎসকধীন। তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকধীন তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ সুস্থ হলেও তাঁর কোমরের নিচের অংশ এখনও অবশ রয়েছে।

অন্যদিকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলার ঘটনায় শুক্রবার প্রত্যাহারকৃত ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলামকে পুলিশ লাইনস রাখা হয়েছে। তার স্থলে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে রংপুর সদর থানার ইন্সপেক্টর মো.আজিম উদ্দিনকে। মামলাটি অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ এখন স্বস্তি পেয়েছে।