• আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হলে দেশে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

১১:৩৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০ জাতীয়
momen

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হলে, দেশে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আসিয়ান ফোরামের ২৭তম বৈঠকে ঢাকা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গঠনমূলক কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী এবং এরপর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে ৩টি দলিল স্বাক্ষরিত হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমার ভেরিফিকেশনের পর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে এবং একই সঙ্গে সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের স্বেচ্ছায় ফিরে আসার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আজ পর্যন্ত কেউ ফিরে যায়নি এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার পরিবর্তে রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধ এবং গোলাবর্ষণ চলছে।

মোমেন তার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না করা হয়, তাহলে তা উগ্রবাদের পকেটে পরিণত হতে পারে এবং যেহেতু সন্ত্রাসীদের কোন সীমানা নেই, কোন বিশ্বাস নেই, এই অঞ্চলে অনিশ্চয়তা সৃষ্টির একটি ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে যা একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল অঞ্চলের জন্য আমাদের আশাকে হতাশায় পরিণত করতে পারে।

আবদুল মোমেন বলেন, বিশ্বাসের ঘাটতি কমাতে এবং আস্থা বাড়াতে আমরা মিয়ানমারকে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ যেমন আসিয়ান, চীন, রাশিয়া, ভারত বা তাদের পছন্দের অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে বেসামরিক পর্যবেক্ষকদের যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এআরএফ-এর অংশীদারদের কাছ থেকে সমর্থন চেয়েছেন যাতে অসহায় রোহিঙ্গারা সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং মর্যাদায় তাদের ভূখন্ডে ফিরে যেতে পারে, সেখানে পুনর্বাসিত এবং সমাজে পুনরায় সংহত হতে পারে।

উল্লেখ্য বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশীরভাগ, প্রায় সাত লাখ লোক এসেছেন ২০১৭ সালের আগস্টের শেষের দিকে রাখাইনে বড় আকারের সহিংসতা শুরু হবার পর। এছাড়া, বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন এড়াতে আগেই এসেছিল চার লক্ষের মতো রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের কারণে মানবিক বিপর্যয়ের সাথে পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যারও সৃষ্টি হয়েছে।পর্যবেক্ষকদের মতে এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের মাঝে উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়লে তা হবে এ অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা সংকট।