সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা: তাপস

৩:৩৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০ জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যানসহ যে সকল অযান্ত্রিক যানবাহনে মোটর-ব্যাটারি-ইঞ্জিন সংযোজন করে সেগুলোকে যান্ত্রিক বানানো হয়েছে, আজ থেকে সেসব যানবাহনগুলো ডিএসসিসি এলাকার সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সকল ইঞ্জিনচালিত রিকশা বা যানবাহন সড়কে পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নগর ভবন প্রাঙ্গণে রিকশা, ভ্যান, ঠেলা গাড়ি, টালি গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ি নিবন্ধন/নবায়ন/মালিকানা পরিবর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এসময় আরও বলেন, ঢাকা শহরকে অনেক কবিসাহিত্যিক ‘সিটি অফ রিক্সা বা রিক্সার নগরী’ বলে চিত্রিত করেছেন। এটা আমাদের ঐতিহ্য। রিকশাসহ আমাদের যে ধীর গতির অযান্ত্রিক যানবাহনগুলো রয়েছে, সেগুলোকে নতুন করে আমরা নিবন্ধন ও নবায়নের আওতায় আনছি। এর মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা আনয়ন করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

নিবন্ধিত অযান্ত্রিক যানবাহন ছাড়া আর কোন অযান্ত্রিক যানবাহনকে ঢাকা শহরে চলাচল করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, এরই মাঝে ডিএসসিসি এলাকার সড়কগুলোতে যানবাহনের কার্যকারিতা নিরুপণের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর ফলে কোন সড়কে ধীর গতির যানবাহন চলবে, কোন সড়কে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করবে, এগুলো আমরা নির্ণয় করব। এই নিবন্ধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ধীর গতির যানবাহনগুলো যেমনি নিবন্ধনের আওতায় আসবে তেমনি নিয়মের আওতায়ও আসবে।

এটা শুধু নিবন্ধন কার্যক্রমই নয়, এই কার্যক্রম নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত সচল ঢাকা গড়তে পরিকল্পনার প্রথম ধাপ উল্লেখ করে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে অযান্ত্রিক যানবাহনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে তাদের সড়ক নির্ধারণ করে দেবো এবং চালকদেরকেও আমরা নিবন্ধনের আওতায় আনব। এরই ফলে অযান্ত্রিক যানবাহনগুলো সুশৃঙ্খলভাবে যাতায়াত ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

রিকশাসহ অযান্ত্রিক যানবাহনগুলোকে নিবন্ধন প্রদানের মাধ্যমে যানজট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকার চাইতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে সচল ঢাকা গড়ার যে রূপ রেখা আমি দিয়েছি, সে পরিকল্পনায় যেমনি দ্রুতগতির যানবাহন থাকবে তেমনি ধীর গতির অযান্ত্রিক যানবাহনও থাকবে বলে উল্লেখ করেছি। এই ঢাকা শহরের দীর্ঘ তিন দশকেরও অধিক সময় রিকশা ও অযান্ত্রিক যানবাহনের কোন নিবন্ধন প্রদান করা হয়নি। কিন্তু তাই বলে কি ঢাকায় রিকশা চলে না? বাস্তবতা হলো, ঢাকায় রিকশা চলে এবং সেগুলো সবই অবৈধভাবে চলে। আর নিবন্ধনের আওতায় আনা মানে অযান্ত্রিক যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা। আমরা এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা-ভ্যান তথা অযান্ত্রিক যানবাহনকে নিবন্ধন প্রদান করব।

অনুষ্ঠানে কর্পোরেশনের পক্ষে কর্পোরেশন এলাকায় সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস একটি ঘোড়ার গাড়ি ও একটি রিকশার আবেদনপত্র সংগ্রহ করেন।

ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হকের সঞ্চালনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী এ সময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ বদরুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডা.) শরীফ আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী রেজাউর রহমান, ডিএসসিসি সচিব আকরামুজ্জামান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ এবং কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।