‘তুলে নেওয়ার একমাস পর জানতে পারি সন্তানরা জেএমবি’র মামলায় গ্রেপ্তার’


❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর- গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে পুলিশের পোশাকে শতাধিক ব্যক্তি চার যুবককে তুলে নেয়। এর প্রায় একমাস পর তাদের স্বজনরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারেন যুবকরা জেএমবি’র সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকা গ্রেপ্তার হয়েছেন।

গ্রেপ্তাররা হলো- গাজীপুরের শ্রীপুরের শেখ মামুন আল মুজাহিদ ওরফে সুমন (২৭), সারওয়ার হোসেন (২৪), আল-আমিন (২৫) ও মুজাহিদুল ইসলাম রোকন (২৬)।

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর শহরে একটি পত্রিকা অফিসে সংবাদ সম্মেলনে ওই যুবকদের কয়েকজন স্বজন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুমনের বাবা শেখ মোসলেম উদ্দিন আহমেদ জানান, সুমন ঢাকার তিতুমীর কলেজে ইংরেজীতে স্নাতক (সম্মান) শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। ১৭ আগস্ট দিবাগত রাতে তার ছেলেকে শ্রীপুরে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি তাদের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায়। পরে প্রায় ১ মাস ধরে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পাইনি।

পরে ১১ সেপ্টেম্বর অনলাইন মিডিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রকাশিত খবর ও ছবি দেখে জানতে পারি তারা গত বৃহস্পতিবার রাতে (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকা থেকে ২৪জুলাই পল্টন থানার বোমা বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে নব্য জেএমবি সদস্য হিসেবে সুমনসহ ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কিন্তু আমার ছেলে কোনভাবেই অন্যায় বা ওইসব জেএমবি তৎপরতার সাথে জড়িত নয়। তাদেরকে যেন মিথ্যা কোন অভিযোগে ও অন্যায়ভাবে হয়রানি না করা হয়, তারজন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে একই কথা জানান, গ্রেপ্তার আল আমিনের মা মাহমুদা বেগম ও স্ত্রী স্বপ্না বেগম, রাহাতের বাবা লিটন মিয়া ও মা নাসিমা বেগম।

পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেন্টু মিয়া সাংবাদিকদের জানান, পল্টন থানার মামলা হলেও ওই মামলার তদন্ত করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তাই ওই মামলার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি বলতে পারেননি।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ইতোপূর্বে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির দেয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সুমনসহ চারজনকে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কমিউনিকেশন অ্যাপের মাধ্যমে জেএমবি সদস্যদের সাথে সুমন নিয়মিত যোগাযোগ চ্যাটিং করতো এবং জঙ্গি তৎপরতা চালাতো। বাকীদেরও সুমন তার নিজের কাজের জন্য তৈরী করেছে। সুমনের বিরুদ্ধে আরও ১২টি মামলা রয়েছে।