সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে ধর্ষিতাকেই দুষছে পুলিশ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ!

৯:৫৮ অপরাহ্ন | সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০ আন্তর্জাতিক
pak

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানে সন্তানদের সামনেই গণধর্ষিতা মাকে ধর্ষণঘটনার জন্য দায়ী করছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই নারীর একা একা বাড়ি থেকে বেরুনো উচিত হয়নি। তিনি বাড়ি থেকে বের না হলে এমন ঘটনা ঘটত না বলে তাদের ধারণা। অবশ্য পুলিশের এই মন্তব্যের পরেই প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে দেশটির বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে দুই সন্তানকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে লাহোরের হয়ে গুজরানওয়ালা প্রদেশে যাচ্ছিলেন ওই নারী। লাহোর হাইওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা তার গাড়ির তেল ফুরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্বামীকে ফোন করে নিজের বিপদের কথা জানান তিনি। তারপর স্বামীর পরামর্শ মতো পুলিশকে ফোন করে সাহায্য করার আবেদন জানান।

কিন্তু পুলিশ আসার আগেই সেখানে দুই যুবক এসে হাজির হয়। তারপর গাড়ির জানলার কাঁচ ভেঙে ওই নারীকে বাইরে বের করে তার দুই সন্তানের সামনেই একে একে ধর্ষণ করে। দুষ্কৃতীরা ওই নারীর তিনটি এটিএম কার্ড ও সঙ্গে থাকা টাকা ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় পুলিশ ধর্ষিতার দিকে দোষারোপের আঙুল তুলেছে। পাকিস্তানি পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ওই নারী একা একা বাড়ি থেকে বের না হলে এ অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটত না। তাদের মতে, পাকিস্তানের সমাজে কোনও কেউ তাদের বোন এবং মেয়েদের রাতে একা বাইরে বেরোতে অনুমতি দেবে না। ধর্ষিতার উচিত ছিল অন্য কোনো বিকল্প রাস্তা বেছে নেয়া।

পুলিশ কর্মকর্তার এই বক্তব্যের কথা জানাজানি হতেই প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠে পাকিস্তানের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য। পোস্টার হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন হাজারের বেশি নারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এরপরই ১জনকে গ্রেফতার করেছে লাহোর পুলিশ।

পাঞ্জাব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান আতিফ নাজির রবিবার জানান, ফোন রেকর্ড ট্র্যাক করার মাধ্যমে দুই সন্দেহভাজনের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।