সংবাদ শিরোনাম
পা হারানো রাসেলকে আরও ২০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ | প্রথম আলো সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য | আত্রাইয়ে বন্যার্তদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ | টিম পজিটিভ বাংলাদেশের পক্ষে ৫০০ ছিন্নমূল মানুষকে খাওয়ালেন রাব্বানী | দেবীগঞ্জে বাড়িতে হামলার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মিছিল | কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানের হামলায় ভারতীয় সেনা নিহত | বিতর্কিত অঞ্চল না ছাড়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি আজারবাইজানের | আবারও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড়াল দিচ্ছেন সাকিব | একাই নির্জন কনডেম সেলে মিন্নি! | জমি লিখে না দেয়ায় বাবাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলো ছেলেরা |
  • আজ ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ স্বীকারকারী দুই সেনাকে ফেরত চায় মিয়ানমার

১০:২৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০ আন্তর্জাতিক
sena

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ স্বীকার করা দুই সেনাসদস্যকে ফেরত চেয়েছে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ। মিয়ানমার সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, পলাতক ওই দুই সেনাকে অবিলম্বে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো উচিত।

মাইয়ো উইন তুন ও জো নাইং তুং নামের ওই দুই সেনাসদস্য এখন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের হেফাজতে রয়েছেন। খবর দ্য ইরাবতীর

গত সপ্তাহে পলাতক ওই দুই সেনা সদস্য জানিয়েছিল, কর্তৃপক্ষের আদেশে আরাকানে তারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণযজ্ঞ চালিয়েছিল। ওই দুই সেনা সদস্য ভিডিওতে সম্প্রতি এই দায় স্বীকার করে বলে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফর্টিফাই রাইটস জানিয়েছে। নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের বক্তব্যের সঙ্গে সেনা সদস্যদের বক্তব্যের মিল পাওয়া গেছে।

পলাতক দুই সেনা সদস্য আরাকান আর্মির কাছে পৃথক পৃথকভাবে গণহত্যা ও ধর্ষণযজ্ঞে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আরাকান আর্মি এই তথ্য সরবরাহ করেছে ফরটিফাই রাইটসের কাছে। ব্যক্তিগত এই স্বীকারোক্তি গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে।

তাদের ফেরত দেয়ার জন্য যুক্তি হিসেবে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন বলেছেন, মিয়ানমারে স্বাধীন বিচার বিভাগ রয়েছে এবং বিচার বিভাগ তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেহেতু পলাতক ওই সেনাদের বিচার মিয়ানমারেই হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের তোলা মানে মিয়ানমারের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ। তাছাড়া এটা আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী।

ইরাবতীকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই মুখপাত্র বলেন, ওই দুই সেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সেখানে পাঠানো হয়েছে। সুতরাং তাদের ফেরত পাঠানো উচিত। তিনি বলেন, মিয়ানমারের আদালতে রাখাইন প্রদেশে সংঘটিত বর্বরতার তদন্ত শুরু হয়েছে। সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনও প্রমাণ কারও কাছে থাকলে তা ইমেইল, টেলিফোন বা পোস্টের মাধ্যমে পাঠানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষ দলে দলে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি জমায়। সব মিলিয়ে এখন প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

এর আগে ৭০’র দশক থেকে শুরু করে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নানা সময়ে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

তবে সবচেয়ে বড় ঢল ছিল ২০১৭ সালে। কক্সবাজারের উখিয়াতে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির বিশ্বের সবচাইতে বড় শরণার্থী শিবির। উখিয়াতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও ছাড়িয়ে গেছে।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় মদদে নির্যাতনের শিকার হয়েই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে তারা। অবশ্য মিয়ানমার সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা গণহত্যা মামলার বিচার কাজ চলছে।