ভারতের একাধিক ভূখণ্ড মানচিত্রে দেখাল পাকিস্তান, তীব্র প্রতিবাদ ভারতের

১০:৫২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ আন্তর্জাতিক
pak

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সীমান্ত সঙ্ঘাত নিয়ে নয়াদিল্লি এবং বেইজিং মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ)-দের বৈঠকে বিতর্কিত মানচিত্র দেখিয়ে ভারতকে খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা করল পাকিস্তান।

জানা গেছে, ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে’র সদস্য দেশগুলির আয়োজনে ভার্চুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর)। এই মিটিংয়ে পাকিস্তানের এই ম্যাপ দেখা পর ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইসার (এনএসএ)-র এই ভার্চুয়াল মিটিং থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বের হয়ে যায় ভারত।

এই মিটিংয়ে পাকিস্তান তাদের দেশের যে নতুন ম্যাপটি তুলে ধরে তাতে দেখা যায়, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ এবং গুজরাতের কিছু অংশ অবলীলায় পাকিস্তানের সেই মানচিত্রে রয়ে গেছে।

গত ৫ অগস্ট, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ এবং জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার বর্ষপূর্তির দিনে বিতর্কিত একটি মানচিত্র প্রকাশ্যে আনে ইসলামাবাদ। তাতে গোটা জম্মু-কাশ্মীর ও গুজরাতের জুনাগড়কে পাক ভূখণ্ডের অংশ বলে দেখানো হয়।

পাকিস্তানের ওই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক পাগলামি’ বলেই ব্যাখ্যা করেছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু দুই প্রতিবেশীর গণ্ডি ছাড়িয়ে এ বার মানচিত্র বিতর্ক ঢুকে পড়ল আন্তর্জাতিক মঞ্চেও। এ দিন ভার্চুয়াল বৈঠক বসেছিল এসসিও-র সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের। সেখানেই এমনই কল্পিত মানচিত্র পেশ করে বসেন পাক প্রতিনিধি ইউসুফ।

সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রতিবাদ জানান ভারতীয় এনএসএ অজিত ডোভাল। বিতর্কের জল গড়ায় বহু দূর। পাক প্রতিনিধির ওই কাণ্ডে পরিস্থিতি এমনই উত্তপ্ত হয় যে, রুশ প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান ডোভাল।

এই ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, এনএসএ-র এই মিটিংয়ে পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কাল্পনিক মানচিত্র তুলে ধরেছে। যে কোনও আলোচনার আসরে এই ধরনের কাজ তো মিটিংয়ের মূল লক্ষ্যটিকেই ব্যাহত করে। তা ছাড়া মিটিংয়ের হোস্টের পক্ষেও এটা বেশ অবমাননাকর ব্যাপার। যে অপমানের মুখোমুখি এ ক্ষেত্রে হল রাশিয়া।

এদিকে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ভারতকে সমালোচনা করতেও ছাড়েনি পাকিস্তান। তারা জানায়, যে-ফোরামের কাজই সহযোগিতার আবহ তৈরি করা সেই রকম একটি মঞ্চ থেকে ভারতের এই ভাবে বেরিয়ে যাওয়াটা বেশ বাজে একটা ব্যাপার।