হাত ধোয়া শেখাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, খরচ ৪০ কোটি টাকা!

১১:১০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- মানুষকে হাত ধোয়া শেখাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, তাতে খরচ হবে ৪০ কোটি টাকা। আবার পাঁচ বছরে মাত্র ৯ জনের বেতন ভাতা ৩ কোটি টাকা, আছে বিদেশ ভ্রমণ, সেখানেও লাগবে ৫ কোটি টাকা। এমনই আবদার করেছে ‘গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্পের ডিপিপি।

জানা গেছে, ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্পের আওতায় মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ১ হাজার ৮৮৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বেসিন সেট স্থাপনের জন্য ধরা হয়েছে ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা দিয়ে ১ হাজার ৪২৫টি বেসিন সেট স্থাপন করা হবে। টাকাগুলো ঋণ হিসেবে দেবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এবং বিদ্যালয়ে গুণগতমানের পরিচ্ছন্নতা পরিষেবা বাড়ানোসহ পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং করোনাসহ যে কোনো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মানুষের মাঝে হাত ধোয়া শেখানোর প্রচারণা চালানো হবে। সে জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জুন নাগাদ ১৮টি জেলার ৭৮টি উপজেলায় পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘রেসপন্স টু কোভিড-১৯ স্যানিটেশন ফ্যাসিলিটিজ সাপ্লাইস, হ্যান্ড ওয়াশিং স্টেশন উইথ রানিং ওয়াটার অ্যাট স্কুল অ্যান্ড পাবলিক প্লেস।

জানা গেছে, দেশের বাজারে ভালো মানের হাত ধোয়ার একটি বেসিনের সর্বোচ্চ মূল্য ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা, পানির পাম্পসহ যার সর্বোচ্চ খরচ ৩৫ হাজার টাকা। অথচ পাঁচ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনিতে সাড়ে তিন ফুট লম্বা একটি স্টেশন তৈরিতে ২ লাখ টাকারও বেশি অর্থের প্রস্তাব করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পানির পাম্পসহ এরকম ১ হাজার ৪২৫টি স্টেশন তৈরির খরচ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা। ডিপিপিতে আচরণ পরিবর্তন আর হাত ধোয়া শেখাতে চাওয়া হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। পরামর্শকদের পেছনে ২৭ কোটি টাকা, আবার নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে অধিদপ্তর ব্যয় করবে ৭ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প পরিচালক আনোয়ার ইউসুফ বলেন, এজন্যই তো প্ল্যানিং কমিশন আছে, একনেক আছে। আমি যেটা দিলাম সেটাই তো পাস হয়ে যাবে না। অনেক কিছু মিলিয়েই কিন্তু টাকাটা।

এদিকে বিদেশি অর্থায়ন হওয়ায়, এ ধরণের প্রকল্পে অনিয়মের আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়ে রাষ্ট্রের সম্মানও, এমন মত অর্থনীতিবিদদের। বিশ্বব্যাংক সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নিয়ন্ত্রণে যদি ঘাটতি থাকে, তাহলে বিশ্বব্যাংক এসে এগুলো ঠিক করে দেবে, এটা আসলে বাস্তবসম্মত না।

যদিও, মন্দের ভালো হিসেবে, গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় ব্যয়ের প্রস্তাবনা নিয়ে আপত্তি তুলে তা ফেরত পাঠিয়ে প্রায় সব খাতে খরচ অর্ধেকে নামাতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) শামীমা নার্গিস বলেন, “প্রকল্পটি নিয়ে পিইসি সভা হয়েছে। আমরা অনেক খাতে ব্যয় কমাতে বলেছি। আরও সভা হবে। ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সব সময় কাজ করে কমিশন। ”