কুড়িগ্রামে আবারও ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে বন্যা, তীব্র হয়ে উঠছে নদ-নদীর ভাঙ্গন!

◷ ৫:০৭ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর
Kurigram Flood Erosion photo 1 17.09.2020

ফয়সাল শামীম, স্টাফ রিপোর্টার: আবারও ভয়বহ রুপ নিচ্ছে বন্যা। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় ধরলা নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিন্মাঞ্চলগুলো। পানিতে তলিয়ে গেছে নিন্মাঞ্চলের রোপা আমন ক্ষেত।

দীর্ঘ দেড় মাসের বন্যার পর ঘুরে দাড়াতে না দাড়াতেই আবারো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষজন।

অন্যদিকে তীব্র স্রোতের কারনে জেলার ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের ২০টি পয়েন্টে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব, কাউয়াহাগার ঘাট, ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চর, মোগলবাসা ইউনিয়নের চরশিতাইঝাড় ও সন্নাসী, রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়া এলাকায় ধরলার ভাঙ্গন তীব্র হয়ে উঠেছে।

অন্যাদিকে তিস্তার ভাঙ্গনের উলিপুরের দলদলীয় ইউনিয়নের ঠুটা পাইকরসহ কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে সদরের যাত্রাপুর, রৌমারী, রাজিবপুর, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: সাইদুর রহমান জানান, গত দুইদিনে ধরলার ভাঙ্গনে আমার ইউনিয়নের জগমনের চর এলাকার ৫৪টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব পরিবার খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও ১৩শ ৫০টি পরিবার পানিবন্দি জীবন-যাপন করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানায়, উজানে ও স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে ভাঙ্গন। আমরা ভাঙ্গনরোধে বিভিন্ন এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।