সংবাদ শিরোনাম
মানবদেহ সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর তথ্য যা অনেকেরই অজানা | রোহিঙ্গাদের ৩৪ কোটি ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র ইইউ ও ব্রিটেন | ঢামেক হাসপাতালকে পাঁচ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী | ‘রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে’- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী | নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ ধরায় ১৮ জেলের কারাদণ্ড! | দেশের মানুষের নিকট জাতীয় পার্টি ছাড়া বিকল্প কোনো পার্টি নেই: জিএম কাদের | বয়স চার হলেই স্কুলে যাবে শিশুরা, ২ বছরের প্রাক-প্রাথমিক | পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বিক্ষুব্ধ সিলেটের টেলিভিশন সাংবাদিকরা | ‘আজারবাইজানের সহায়তায় সেনা পাঠাতে দ্বিধা করবে না তুরস্ক’ | ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলাকে জঙ্গিবাদের চর্চা বলায় লিগ্যাল নোটিশ |
  • আজ ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ডালি বুনে দারিদ্রতা দূর করতে চান শেরপুরের নারীরা

৩:০৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ রাজশাহী
bogg

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ২০ গ্রামের কয়েক হাজার নারী হস্তশিল্পের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন। হাতে বিভিন্ন নান্দনিক জিনিস তৈরির মাধ্যমে নিজেদের দারিদ্রতা দূর করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করছেন তারা। তাদের তৈরি জিনিস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হওয়ার কারণে এমনটি সম্ভব হয়েছে।

জেলার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া গ্রাম। রাস্তার পাশ দিয়ে যেতেই দেখা যায় ৮ থেকে ১০ জন মহিলা গোলাকার হয়ে বসে ছন দিয়ে ডালা বুনছেন। হস্তশিল্পী এসব নারী বাড়িতে বসেই বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি,ডালি, ফ্লোর ম্যাট, মাদুর/পাটি এবং বিভিন্ন প্রকার শোপিস তৈরি করে এই সফলতা অর্জন করেছেন।

এই অঞ্চলে ছয়টি প্রতিষ্ঠান এই কাজ পরিচালনা করে। হস্তশিল্পী নারীরা তাদের কাছ থেকেই তালপাতা, ছন এবং পাটের সুতাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সংগ্রহ করেন। তা দিয়ে চাহিদামতো জিনিস তৈরি করে বিক্রির পর কাঁচামালের অর্থ ফেরত দেন তারা। আর এতে করে অতিরিক্ত মূলধনেরও প্রয়োজন হয়না।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ছয় হাজারের বেশি নারীকে কাঁচামাল সরবরাহ করেন। ইউনিয়নগুলো হলো- ভবানীপুর, গাড়ীদহ, কুসুম্বী, খানপুর এবং সীমাবাড়ি। এর মাধ্যমে এসব নারী অর্থনৈতিকভাবেও সাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

সরেজমিনে গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মহিলারা বাড়ির অন্যান্য সদস্যের নিয়ে ঝুড়ি,ডালি, ফ্লোর ম্যাট, মাদুর/পাটি এবং বিভিন্ন প্রকার শোপিস তৈরিতে ব্যস্ত। গ্রামবাসীরা জানান, বাড়ির সমস্ত কাজ শেষ করে তারা অর্থ উপার্জনের জন্য এই কাজ করছেন।

ঘরের সব কাজ শেষ করেও প্রত্যেক হস্তশিল্পী মাসে সাড়ে তিন হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন। যিনি যত বেশি অর্ডার শেষ করতে পারেন তিনি ততবেশি অর্থ উপার্জন করে থাকেন।

একই গ্রামের রিকশা চালক আব্দুর রশিদ সম্প্রতি ইটের আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তিনি এই বাড়ি তৈরিতে অবদান রাখার জন্য স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। আব্দুর রশিদ বলেন, আমার স্ত্রী, পুত্রবধূ, মেয়ে সকলে বাড়িতে হাতে জিনিস তৈরি করে। তারা তিনজন মিলে মাসে ১০ হাজারের বেশি আয় করে। করোনা ভাইরাসের কারণে ছেলে মেয়েদের স্কুল বন্ধ থাকায় তারা আমাদের সহযোগিতা করছে বলেই একটু বেশি ডালা বুনতে পারি।

হাপুনিয়া গ্রামের আরেক বাসিন্দা নার্গিস আক্তার (৩৭) জানান, তিনি মাসে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা উপার্জন করেন। তিনি বিডি ক্রিয়েশনস্ নামের একটি প্রতিষ্ঠনে গত দশ বছর ধরে কাজ করছেন। বিডি ক্রিয়েশনস্ ওই ছয়টি প্রতিষ্ঠনের একটি। নার্গিস জানান, গ্রামের ৯৫ ভাগ মহিলারাই এই কাজের সঙ্গে জড়িত।

জোসনা বেগম (৩৫) নামের এক নারী বলেন, তিনি যখন ছোট ছিলেন তখন এসব জিনিস তৈরি করা শিখেছেন। এখানের মহিলারা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরির জন্য যায় না। গ্রামে বসেই প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে।

বিডি ক্রিয়েশনসের এরিয়া ম্যানেজার রারিদ হাসান বলেন, আমাদের পাঁচ শতাধিক বাড়িতে বসে কাজ করে এমন হস্তশিল্পী এবং ফ্যাক্টরিতে কাজ করে এমন ২০০ হস্তশিল্পী রয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই নারী। বাড়িতে বসে যারা জিনিস তৈরি করে তারা আমাদের থেকে কাঁচামাল নিয়ে পরে পণ্য তৈরি করে আমাদের ফেরত দেয়।

তিনি জানান, এখানে এ বিষয়ে কাজ করে এমন ছয়টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলো হলো- সান ট্রেড, ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রডাক্টস্ বিডি, ঢাকা হ্যান্ডিক্রাফ্ট, এএসকে হ্যান্ডিক্রাফ্ট, ক্রাফ্ট ভিলেজ এবং ক্রিয়েটিভ বিডি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র বগুড়া থেকে মাসে দুই কোটি টাকার বেশি পণ্য উৎপাদন করে থাকে।

বিডি ক্রিয়েশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আহমেদ পিয়াস বলেন, তারা দুই শত বিভিন্ন ধরনের পণ্য বগুড়া থেকে উৎপাদন করেন এবং এগুলো অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, সুইডেন, ডেনমার্ক সহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশে ও চীন, ভারত, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেন।

তিনি বলেন, আমরা অর্ডার পাওয়ার জন্য জার্মানির একটি ও হংকংয়ের দুইটি মেলায় অংশগ্রহণ করেছি। সেখানে বিশ্বের বড় বড় ক্রেতারা অংশগ্রহণ করেন।

এক হাপুনিয়া গ্রামেই ছয়টি কারখানা রয়েছে। তার মধ্যে- দুইটি বিডি ক্রিয়েশনসের, তিনটি ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড এবং একটি সান ট্রেডের।

ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড এর প্রোডাকশন ম্যানেজার রবিউল হাসান বলেন, গ্রামের প্রতিটি ফ্যাক্টরিতে প্রায় দুইশ জন করে হস্তশিল্পী রয়েছেন। এই অ লে প্রথম হস্তশিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮০ সালে। কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং হস্তশিল্পী পর্যাপ্ততার কারণে প্রতি বছর এটি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব হস্তশিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগ উপাদানই আশে-পাশের গ্রামগুলো থেকে এবং যমুনা নদীর চর থেকে আসে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, এই উপজেলায় যারা নারী উদ্যোক্তা আছেন তাদের বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা প্রশিক্ষন পায় নাই তাদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি ভাবে যে সকল প্রকল্প দেয়া হয় প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের মাঝে তা বন্টন করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারী উদ্যোক্তাদের উপর খুব গুরুত্ব দিয়েছেন।