সংবাদ শিরোনাম
চাঁদপুরে জনবল সংকটে পুলিশ: জেলেদের হামলা অব্যাহত | কয়েদির পোশাকে ভাইরাল মিন্নির ছবি, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা | মুসলিমদের অনুভূতি আমি বুঝতে পেরেছি : ম্যাঁক্রো | এবার রাশিয়াকে আংশিক মুসলিম রাষ্ট্র বললেন পুতিনের মুখপাত্র | চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা | ‘মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে অপপ্রচারের সুযোগ নেই’- তথ্য প্রতিমন্ত্রী | ইয়েমেনের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রীকে হত্যাকারী ঘাতক নিহত | বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসায় উপমহাদেশজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী | মত প্রকাশের স্বাধীনতায়ও সীমাবদ্ধতা আছে: জাস্টিন ট্রুডো | ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার কারণে এক সপ্তাহে ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার |
  • আজ ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনায় লোকসান গুনতে গুনতে অস্তিত সংকটে বেলকুচির তাঁত পল্লী

২:৫৪ অপরাহ্ন | রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

উজ্জ্বল অধিকারী, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি- করোনায় লোকসান গুনতে গুনতে অস্তিত সংকটে সিরাজগঞ্জের বেলকুচির তাঁত পল্লী। যমুনা নদীর পানি ৩ দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার পানিতে তলিয়ে ছিল অধিকাংশ তাঁত পল্লী। এতে বেকার হয়ে পরেছে এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ শ্রমিক।

করোনা এবং বন্যায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে তাঁত মালিকরা। তাঁতীদের তাঁত কাদা মাটি আর মাকড়সার জালে আটকে আছে অধিকাংশ তাঁত পল্লী। তাঁত শ্রমিকরা সরকারী সহায়তার জন্য অপেক্ষা করলেও তেমন কোন আশ্বাস মেলেনি।

করোনা এবং বন্যায় তাঁত শিল্পে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুশিয়ে উঠতে সরকার সহায়তার হাত বাড়াবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তাঁত শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট মালিকরা। বন্যার পানি ওঠায় অধিক সময় তাঁত পল্লী বন্ধ থাকায় তাঁতসহ তাতেঁর কাঁচামাল নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগে। তাই নতুন করে পুনরায় শুরু করতে পুঁজির অভাবে অনেক কারখানাই এখনও বন্ধ রয়েছে।

আকস্মিকভাবে বন্যার পানিতে বেলকুচি,উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার তাঁত পল্লী গুলিতে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে ছিল ছোট বড় প্রায় ৬ শতাধিক তাঁত শিল্পের কারখানার প্রায় ৪০ হাজার তাঁত।

যমুনা নদীতে পানি কমায় তাঁত কারখানা থেকে পানি সরে গেছে ঠিকই কিন্তু তাঁত ঘরের বেহাল দশায় দিশেহারা তাঁত মালিকেরা। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে তাঁতের তৈরী কাপরের বাজারে চরম ধস নেমেছে। বর্তমানে যমুনা নদীর পানি কমলেও তাঁত শিল্পে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুশিয়ে উঠতে সময় লাগবে অন্তত দুথবছর। তাই স্বল্প সুদে ঋণের দাবী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনা ও বন্যার প্রভাবে গত ৫ মাসে এলাকার প্রায় ৪০ হাজার তাঁতই বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি তাঁতি ও শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

বেলকুচি, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুরের তাঁত পল্লী­তে তৈরি উন্নতমানের বাহারি ডিজাইনের শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি, থ্রি-পিস এবং গামছা দেশে তাঁতবস্ত্রের চাহিদার বেশির ভাগ পূরণ করে। ভারতসহ বহির্বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশেও তাঁতবস্ত্র রপ্তানি হয়।

সম্প্রতি করোনায় বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে ক্রেতার আগমন নেই বললেই চলে। উৎপাদিত তাঁতবস্ত্রের মজুত অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে।

নতুন করে কাঁচামাল ক্রয়, বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁত ও কারখানা মেরামত, তাঁতী ও শ্রমিক পরিবারে জীবিকা নির্বাহ, ঋণের কিস্তি ও সুদের ঘানি টানতে গিয়ে ঋণের জালে তাঁতিরা আটকে পড়ছেন।

বেলকুচি পৌর এলাকার শেরনগর গ্রামের তাঁতী দেলবার হোসেন প্রতিবেদককে জানান, বন্যা ও করোনায় তাঁতীদের চরম ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুশিয়ে উঠতে প্রায় ২ বছর সময় লাগবে। সরকার যদি আমাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয় তাহলে কিছুটা হলেও পুশিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

বেলকুচি পৌর এলাকার তাঁতপল্লীর আদালত পাড়ার আনিছুর (৩৫) বলেন, ৩টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৫ সদস্যের পরিবারের জীবন থমকে দাঁড়িয়েছে। ৫ মাসে তার লাখ টাকার বেশী লোকসান হওয়ায় ঋণ গ্রস্থাবস্থায় অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

একইভাবে গত ৫ মাসে এ মহল্লার হাজী রুহুল আমীনের ছেলে আব্দুর রহমান ১০ টি তাঁত বন্ধ থাকায় ৭ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।

বেলকুচি উপজেলা তাঁতী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও তাঁতী নেতা রফিকুল ইসলাম জানান, এ দুরবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই শিল্পটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে তাঁতীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া অতি জরুরী হয়ে পরেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী বলেন, বিলুপ্তির হাত থেকে তাঁত শিল্পকে রক্ষায় সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান জরুরি হয়ে পড়েছে।

বেলকুচি তাঁত বোর্ডের লিয়াঁজো অফিসার তন্নি জানান, করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হলেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ তাঁতের তালিকা চলমান রয়েছে। তাঁত বোর্ডকে জানানো হয়েছে তারা অনুদান দিলেই তা ক্ষতিগ্রস্থ্য তাঁতীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। আর তাঁতীদের লোনের জন্য তালিকা করা হচ্ছে যা স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিতরণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ জানান, তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে তাঁত বোর্ড ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্ষতি পুরণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থ তাঁত মালিক ও শ্রমিক যেন বরাদ্দ পায় সেদিকে নজর রাখা হবে। ইতিমধ্যে ৪ শত শ্রমিককে আড়াই হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে এবং বাকীদেরও দেয়া হবে।