সংবাদ শিরোনাম

বিয়ে পাগল স্বামীর গোপনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দিলেন স্ত্রী!সিরাজগঞ্জে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ী ও শিশু নিহতটিকা সবাইকে দিয়ে নিই, তারপর আমি নেবো: প্রধানমন্ত্রীসুনামগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, ১ জন আটকসংঘর্ষ, গোলাগুলি অতঃপর দুই লাশে শেষ হলো চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনরংপুরে ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৯ লাখ টাকা জরিমানানির্বাচন বর্জন করলেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী জান্নাতুল ইসলামদেশের প্রথম করোনা টিকা নিলেন নার্স রুনুমুন্সিগঞ্জে শিশু ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবনদেশে করোনা টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • আজ ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘কাবা শরীফের আদলেই হতে পারে অযোধ্যার মসজিদ’

◷ ১২:১১ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ আন্তর্জাতিক
Ige68699

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- অযোধ্যার মসজিদ তৈরির বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন মসজিদ তৈরির দায়িত্বে থাকা ইন্দো-ইসলামিক কালাচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সম্পাদক ও মুখপাত্র আতাহার হুসেন। গতকাল রোববার তিনি বলেছেন, মক্কার বিখ্যাত কাবা মসজিদের আদলেই তৈরি হতে পারে এই মসজিদ।

এক সাক্ষাৎকারে আতাহার হুসেন বলেন, ‘১৫ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে গড়ে উঠবে এই মসজিদ। বাবরি মসজিদের আয়তনও এমনটাই ছিল। তবে বাবরির থেকে একেবারে আলাদা আদলে তৈরি হবে মসজিদটি। এটি কাবা মসজিদের মতো চৌকো গড়নের হতে পারে।’

তবে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এখনো পুরোটাই আলোচনার স্তরে আছে। কাবা মসজিদে যেমন কোনো গোল মাথা বা গম্বুজ নেই, তেমনই হতে পারে অযোধ্যার মসজিদও। এ বিষয়ে স্থপতিবিদকেই সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন বিবাদের আইনি ইতি টেনে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়, অযোধ্যার বিতর্কিত ওই ২ দশমিক ৭৭ একর জমিতে গড়ে উঠবে রাম মন্দির। আর অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসজিদের জন্য বরাদ্দ করা হবে ৫ একর জমি। মন্দির ও মসজিদ নির্মাণে হিন্দু ও মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের আলাদা দুটি সংস্থাকেও দায়িত্ব দেন আদালত।

রায় অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গত আগস্টে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে শুরু করেছে রাম মন্দির নির্মাণ। আর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদ নির্মাণের জন্য অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ দেয় রাজ্য সরকার। সেখানে মসজিদ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করতে ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছে উত্তর প্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড।

ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র আতহার হুসেইন জানান, ধন্নিপুর গ্রামে নির্মাণ হবে ১৫ হাজার বর্গফুটের মসজিদ। এটি বাবরি মসজিদের আকারের সমান। তিনি বলেন, ‘মসজিদটির আদল হবে অন্য মসজিদগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। স্থপতি এসএম আখতার ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটির আদল মক্কার কাবা শরিফের মতো বর্গাকৃতির হতে পারে।’

কাবা শরিফের মতো ধন্নিপুরের মসজিদটিও গম্বুজ ও মিনার ছাড়াই নির্মাণ হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আতহার হুসেইন বলেন, ‘সেটা একটা সম্ভাবনা হতে পারে।’ তিনি জানান, ‘এই বিষয়ে স্থপতিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’

ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র আতহার হুসেইন বলেন, ‘মসজিদটির নাম বাবরি মসজিদ হবে না। কোনও বাদশাহ কিংবা সম্রাটের নামেও এটির নামকরণ হবে না। আমার ব্যক্তিগত মত হলো এটিকে ধন্নিপুর মসজিদ নাম দেওয়া উচিত হবে।’

মসজিদ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে জাদুঘর, হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানান আতহার হুসেইন। এজন্য অনুদান সংগ্রহের উদ্দেশে ফাউন্ডেশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট বানানোর কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। ওই ওয়েবসাইটে ভারতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের লেখা থাকবে বলেও জানান আতহার। তিনি বলেন, পোর্টালের কাজ এখনও কিছুটা বাকি রয়েছে। আর সে কারণে অনুদান সংগ্রহ শুরু করা যায়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী ‘করসেবকেরা’ অযোধ্যার বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়। তাদের দাবি, ওই স্থানেই ছিল প্রাচীন রাম মন্দির।