সংবাদ শিরোনাম
এবার পাকিস্তানের মানচিত্র থেকে কাশ্মীর বাদ দিলো সৌদি আরব | আবারও ফেসবুকে ‘ইসলামবিরোধী’ পোস্ট, সেই যুবকের রিমান্ড চায় পুলিশ | শরীয়তপু‌রে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ২ | আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শনিবার বসবে পদ্মা সেতুর ৩৫তম স্প্যান | তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৬, আহত দুই শতাধিক | ‘মানুষের মন থেকে পুলিশভীতি দূর করতে হবে’- রাষ্ট্রপতি | ফ্রান্স ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ওজিল | যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ | নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিধবাকে ধর্ষণ, কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টায় ৩ জন গ্রেফতার | বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো শেরপুরের তীর্থ উৎসব |
  • আজ ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা ভাইরাস: লক্ষণ, সুরক্ষার উপায় এবং দন্ত চিকিৎসা ও প্রতিকার

১১:৪৮ পূর্বাহ্ন | বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ আপনার স্বাস্থ্য

বর্তমান বিশ্বের প্রধান আলোচ্য বিষয় করোনা ভাইরাস, যেটি ধারণ করেছে মহামারী ও ভয়াবহ রূপ। গঠনগতভাবে করোনা ভাইরাস একটি বিশাল (RNA) ভাইরাসের পরিবার।

‘করোনা’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল মুকুট। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের তলায় এই পরিবারের ভাইরাসকে অনেকটা রাজার মাথার মুকুটের মতো দেখায়, সেই থেকে এই নামকরণ। অন্য সকল ভাইরাসের মতো এরাও জীবনধারণ ও বংশবৃদ্ধির জন্য কোন না কোন কোষের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে।

রোগ প্রতিরোধের জন্য সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল আত্মসচেতনতা। নতুন এই রোগটি প্রথম দিকে বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল, তবে সব থেকে গ্রহণযোগ্য বিশ্বব্যাপী হলো ”COVID-19″, যা নির্ধারিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে।

তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। শুরুর দিকের উপসর্গ সাধারণত সর্দিজ্বর, অবসাদ, শ্বাসকষ্ট, কফ, মাংস পেশিতে ব্যাথার মাধ্যমে শুরু হয়। প্রধান লক্ষণ শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা; মূলত এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে। সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

৫৬ হাজার আক্রান্ত রোগীর উপর চালানো এক জরিপ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, এই রোগে ৬% কঠিনভাবে অসুস্থ হয়- (ফুসফুস বিকল হওয়া, সেপটিক শক, অঙ্গ বৈকল্য এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা। ১৪% এর মধ্যে তীব্রভাবে উপসর্গ দেখা যায়; মূলত শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরী হয়। ৮০% হালকা উপসর্গ দেখা যায়- জ্বর এবং কাশি ছাড়াও কারো কারো নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে প্রতিরোধ করার জন্য সামাজিক দূরত্ব, সীমাবদ্ধতা, নিজের আত্মসচেতন হওয়া আব্যশক। যেহেতু করোনা ছড়িয়ে পড়েছে তখন সাধারণত সংস্পর্শে থাকা অবস্থায় ১ মিটার (৩ ফুট) সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলতে হবে। যখন থুতু ফেলা হয় সেটার মাধ্যমে রেসপাইরেটরিতে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে এবং জন থেকে জনে ছড়িয়ে পড়ছে।

সুতরাং ১ মিটার সীমাবদ্ধতা পালন করতে হবে। মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে মুখ এবং দাঁত সুরক্ষার জন্য। দুই হাতে গলবস ব্যবহার করতে হবে। হাত ধোয়ার জন্য হ্যানড স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

কোন রোগীর সংস্পর্শ থাকলে সন্দেহজনিত কারণে অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত করতে হবে। নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করলে মুখ গহ্বর ও দাঁত লালচে ও র‍্যাশ পড়ার সম্ভাবনা হয়, সুতরাং অবশ্যই মুখ গহ্বর ও দাঁতের রোগ প্রতিরোধ এর জন্য প্রতিষেধক নিজেকে নিতে হবে।

পরিশেষে এই ভাইরাসকে গুরুত্ব দিতে হবে। এর হাত থেকে বাঁচতে বার বার সাবান বা ৬০ শতাংশ আ্যালকোহল রয়েছে এমন স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া খুব জরুরি। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া (ভিটামিন-সি), যা মাড়ি ও দাঁতের সুরক্ষা রাখে।

 

লেখক: ডাঃ কাজী সোমাইয়া মাহ্ নূর।

[email protected]

ওরাল কেয়ার, গ্রীন রোড, ১২০৫-ঢাকা।