সংবাদ শিরোনাম
এবার পাকিস্তানের মানচিত্র থেকে কাশ্মীর বাদ দিলো সৌদি আরব | আবারও ফেসবুকে ‘ইসলামবিরোধী’ পোস্ট, সেই যুবকের রিমান্ড চায় পুলিশ | শরীয়তপু‌রে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ২ | আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শনিবার বসবে পদ্মা সেতুর ৩৫তম স্প্যান | তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৬, আহত দুই শতাধিক | ‘মানুষের মন থেকে পুলিশভীতি দূর করতে হবে’- রাষ্ট্রপতি | ফ্রান্স ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ওজিল | যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ | নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিধবাকে ধর্ষণ, কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টায় ৩ জন গ্রেফতার | বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো শেরপুরের তীর্থ উৎসব |
  • আজ ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জিনজিয়ানের ১৬ হাজার মসজিদ গুঁড়িয়ে দিল চীন

৬:১৯ অপরাহ্ন | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনা কর্তৃপক্ষ জিনজিয়ান প্রদেশে হাজার হাজার মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এএসপিআই। শুক্রবারের (২৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে ওই অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিস্তৃত তথ্য প্রমাণও তুলে ধরা হয়।

মানাবধিকার সংস্থাগুলো বলছে, উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়ানের বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে অন্তত ১০ লাখ মানুষকে আটকে রেখেছে চীনা সরকার। যাদের অধিকাংশই উইঘুর মুসলমান এবং তুর্কিভাষী বাসিন্দা। তাদেরকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতি এবং ধর্ম চর্চা ত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও বলা হয়।

অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের (এএসপিআই) প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ১৬ হাজার মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে চীন। স্যাটেলাইটে পাওয়া মসিজিদের ধ্বংসাবশেষের ছবি, তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানানো হয়।

সবচেয়ে বেশি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে গেলো তিন বছরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ হাজার ৫০০ মসজিদ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। উরুমকি এবং কাশগারে সবচেয়ে বেশি মসজিদ ধ্বংস হয়।

যেসব মসজিদ ধ্বংস করা হয়নি সেসব মসজিদের মিনার ও গম্বুজ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে প্রদিবেদনে বলা হয়। জিনজিয়ানে অক্ষত এবং মিনার, গম্বুজ ছাড়া এমন মসজিদের সংখ্যা ১৫ হাজার ৫০০টির মতো।

১৯৬০ সালে দেশটিতে সংস্কৃতি বিপ্লব শুরু হয়। চলে কয়েক দশক। পরবর্তীতে জিনজিয়ানে যে পরিমাণ মসজিদ ছিল বর্তমান সংখ্যা তার থেকে অনেক কম। জিনজিয়ানে খ্রিস্টনদের চার্চ এবং বৌদ্ধদের মন্দিরের বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

এএসপিআই’র জানায়, মাজার, গোরস্থানসহ মুসলমানদের এক তৃতীয়াংশ পবিত্র স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি গেলো বছর এক অনুমসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, জিনজিয়ানের বেশকিছু করবস্থান গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে চীন জোর দিয়ে বলেছে, জিয়ানজিয়ানের বাসিন্দারা পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করছে। এএসপিআই’র গবেষণা সম্পর্কে শুক্রবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করা হয়। তারা জানান, ওই গবেষণার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। চীনবিরোধী প্রতিবেদেনে চীনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, জিনজিয়ানে ২৪ হাজার মসজিদ রয়েছে। জিনজিয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের থেকে ১০ গুণ বেশি মসজিদ রয়েছে। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গড়ে জনপ্রতি মসুলমানের জন্য চীনে যে পরিমাণ মসজিদ রয়েছে তা কোনো কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও নেই।

বৃহস্পতিবার এএসপিআই জানায়, জিনজিয়ানে তারা ৩৮০ আটক কেন্দ্র চিহ্নিত করেছে। আটক কেন্দ্রের সংখ্যা ধারাণার চেয়ে অনেক বেশি এবং সেগুলো দ্রুত প্রসারিত করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।