সংবাদ শিরোনাম
তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৬, আহত দুই শতাধিক | ‘মানুষের মন থেকে পুলিশভীতি দূর করতে হবে’- রাষ্ট্রপতি | ফ্রান্স ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ওজিল | যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ | নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিধবাকে ধর্ষণ, কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টায় ৩ জন গ্রেফতার | বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো শেরপুরের তীর্থ উৎসব | কর্ণফুলীতে বিপুল ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক | ফ্রান্সে মুহাম্মদ (সা.) এর অবমাননার প্রতিবাদে সোনাগাজীতে লাখো মুসল্লীর বিক্ষোভ | ‘সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম নেই’- লেবাননের প্রধানমন্ত্রী | ‘অপরাধীরা মুসলিম পরিচয়ধারী হতে পারে না’- জাস্টিন ট্রুডো |
  • আজ ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

উইঘুর সংস্কৃতি বিলুপ্ত করতেই হাজার মসজিদ ধ্বংস করে চীন

১২:১৬ অপরাহ্ন | শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ আন্তর্জাতিক
china

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জিনজিয়াং প্রদেশের হাজার হাজার মসজিদ একেবারে গুঁড়িয়ে বা ক্ষতিগ্রস্থ করে দিয়েছে চীন। গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জিনজিয়াংয়ের প্রায় ১৬ হাজার তথা মোট মসজিদের ৬৫ ভাগ মসজিদ ধ্বংস করার কথা জানায় অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্রাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই)।

গত তিন বছরেই অধিকাংশ মসজিদ বিধ্বস্ত হয় এবং ৮ হাজার পাঁচশ মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়। এছাড়া চীনের উরুমকি ও কাশগড় শহরের বাইরের মসজিদও এ থেকে রক্ষা পায়নি। তবে ধ্বংস থেকে রক্ষা পাওয়া অনেক মসজিদের মিনার ও গম্বুজ ভেঙ্গে ফেলা হয়। গবেষণা প্রতিবেদন মতে জিনজিয়াংয়ের আশপাশে ১৫ হাজার পাঁচ শয়ের কম মসজিদ অক্ষত ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে।

সংখ্যাটি যথাযথ হলে তা হবে ১৯৬০ সালে সাংস্কৃতিক জাগরণে সংগঠিত জাতীয় বিপ্লবের পর মুসলিমদের এবাদতঘরের সর্বনিম্ন সংখ্যা। অপর দিকে একই অঞ্চলের খ্রিস্টানদের গির্জা ও বৌদ্ধদের উপাসনালয় কোনো ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।

প্রতিবেদন মতে, জিনজিয়াংয়ে মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলো মসজিদ, কবরস্থান ও যাতায়াতপথের এক-তৃতীয়াংশ স্থাপনা ইতিমধ্যে ধ্বংস করা হয়। জিনজিয়াংয়ের স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিলুপ্তির চেষ্টা করছে চীন। বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এড়িয়ে কাজ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘উইঘুর মুসলিমদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচার এমনকি খাবারের রীতি পরিবর্তন করে তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে পুনর্গঠনে দমন পক্রিয়া চালাচ্ছে চীন। চীন সরকারের নীতিগুলো তাঁদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।’

তাতে আরো বলা হয়, ‘উইঘুরদের সংস্কৃতিক রক্ষায় অধিকাংশ মুসলিম দেশ চীন সরকারকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া জিনজিয়াংয়ের সাংস্কৃতিক বিলুপ্তির অগণিত প্রমাণের পরও নীরব ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ইউনেরস্কো ও প্রাচীন স্থাপত্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল।

তবে চীন জোর দিয়ে বলেছে, জিয়ানজিয়ানের বাসিন্দারা পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করছে। এএসপিআই’র গবেষণা সম্পর্কে শুক্রবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করা হয়। তারা জানান, ওই গবেষণার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। চীনবিরোধী প্রতিবেদেনে চীনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, জিনজিয়ানে ২৪ হাজার মসজিদ রয়েছে। জিনজিয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের থেকে ১০ গুণ বেশি মসজিদ রয়েছে।

নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গড়ে জনপ্রতি মসুলমানের জন্য চীনে যে পরিমাণ মসজিদ রয়েছে তা কোনো কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও নেই।