• আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দ্রুত অনলাইন ক্লাস চালুর দাবি বাকৃবি শিক্ষার্থীদের, প্রশাসনের ভ্রুক্ষেপ নেই

৭:২০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন
bau

হাবিবুর রনি, বাকৃবি প্রতিনিধিঃ শিক্ষার্থীদের সাথে একাধিক ভার্চুয়াল সভা, পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের আশ্বাসের পরও শুরু হয়নি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম।

দীর্ঘদিন একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির থাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাড়ছে সেশনজটের শঙ্কা, বাড়ছে ক্ষোভ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে প্রশাসনকে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে অবগত করা হলেও কোনো ফল মেলে নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বললেই চলে।

করোনা সংক্রমণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে থেমে যায় শিক্ষাকার্যক্রম। পরবর্তীতে দেশের প্রায় সকল সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ তাদের শিক্ষাক্ষেত্রে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনলাইনে পাঠদান কর্মসুচি চালু করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও মাস্টার্স লেভেলে সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে শিক্ষকদের অনাগ্রহকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনলাইন ক্লাস শুরু করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের সাথে একাধিকবার শিক্ষকদের ভার্চুয়াল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে শিক্ষকদের পক্ষ হতে দ্রুত অনলাইন ক্লাস শুরুর কথা বলা হলেও পরবর্তীতে তা কার্যকর হয়নি।

মাস্টার্স লেভেলের একটি সেমিস্টারে অনলাইন ক্লাস শুরুর সপ্তাহখানিকের মধ্যে তাদের উপস্থিতি এবং তাদের অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতার ভিত্তিতে স্নাতক লেভেলে ক্লাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলা হয়েছিলো। কিন্তু মাস্টার্সের ক্লাস শুরুর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই বিষয়ের এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব শোভন বলেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রায় সব জায়গায় অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পাঠদান চালু রয়েছে। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এই দীর্ঘ সময়েও অনলাইন শুরু করতে পারেনি। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনলাইন ক্লাসের কোনো বিকল্প দেখছি না।

কৃষি অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী বায়েজিদ বাপ্পী বলেন, করোনা পরিস্থিতি যে খুব দ্রুত শেষ হবে না, সেটা আমরা সবাই অবগত। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস চালু না করে কেবল কালক্ষেপন করে যাচ্ছে। আমরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছি হয়তো দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদ ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে মিটিংয়ের মিথ্যা আশ্বাসে আটকে রাখা হয়েছে আমাদের। ৪০ দিনের রিপিট পরীক্ষাগুলোরও কোনো সুরহা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও মিলছে না কোনো সদুত্তর। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অনলাইন ক্লাস ও রিপিট পরীক্ষাগুলো সুনিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে ডিন কাউন্সিল থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আশা করি শীঘ্রই অনলাইন ক্লাস চালু হবে।