সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘পঁচাত্তরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধ্বংসের অপচেষ্টা হয়েছিল’- তথ্যমন্ত্রী

১১:১২ অপরাহ্ণ | শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২০ জাতীয়
tottho

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে সবার রক্তস্রোতের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে তা ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, তখন থেকে রাষ্ট্রকে উল্টো পথে হাঁটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর রাষ্ট্র উল্টো পথে হেঁটেছে। এরপর ৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর যে চেতনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র রচিত হয়েছে সেই চেতনা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক দু:স্থ ও মন্দিরের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মুসলিম সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে এই দেশের অভ্যুদয় হয়েছে। দেশ বিভাগ হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। আমরা দেশ বিভাগের সময় সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্র পেয়েছিলাম। যেখানে ধর্মীয় পরিচয়টাকে মুখ্য হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু বাঙ্গালীদের আবহমানকাল ধরে লালিত সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের কাছে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়। আমাদের কাছে বাঙালি পরিচয় হচ্ছে মুখ্য।

তিনি বলেন, যখন আমরা দেখতে পেলাম ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য করতে গিয়ে আমাদের বাঙালি পরিচয়ের ওপর আঘাত আসছে, বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতির উপর আঘাত আসছে, বাংলা ভাষার উপর আঘাত আসছে। তখন সেই সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে জাতির পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতার যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই রাষ্ট্রে ধর্ম যার যার, উৎসব কিন্তু সবার- এই শ্লোগানে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এই নীতিতে বিশ্বাস করেন, সেই কারণে এই কথা তিনি সব সময় বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশে যখন পূজা উৎসব হয়, তখন সেটা শুধু হিন্দু ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা, সেই উৎসবে মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সবার মাঝে সেই উৎসবের আনন্দ সঞ্চারিত হয়। একই ভাবে আমাদের দেশে যখন ঈদ উৎসব হয়, সেই আনন্দ শুধু মুসলমান সম্প্রদায়েরর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা। একইভাবে যখন প্রবারণা পূর্ণিমা হয় তখন ফানুস উড়ানোর উৎসব শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেনা। এটিই হচ্ছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৌন্দর্য। এটাই হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে শত্রু সম্পত্তি আইন করে একটি রাষ্ট্রের ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে শত্রু আখ্যায়িত করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই আইনের পরিবর্তন হয়েছে। এই আইনের বেড়াজালে একটি সম্প্রদায়কে হয়রানি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের সহায় সম্পত্তি অনেক সময় বেহাত হয়েছে, বেহাত করার অপচেষ্টা করা হতো। সেটি থেকে রক্ষা এবং যেগুলো বেহাত হয়ে গেছে সেগুলোকে ফেরত আনার লক্ষে কিন্তু আইন প্রণয়ন করা হয়। আইন সংশোধন করা হয় এবং প্রসিকিউটর নিয়োগ করা হয়। অনেকেই ইতোমধ্যে এর সুফল পেয়েছেন।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখে। এখানেই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্র রচনার সার্থকতা। আজকে বাংলাদেশ সকল অর্থনৈতিক, মানব উন্নয়ন, সামাজিক সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে। মানব উন্নয়ন ও সামাজিক সূচকে অনেক ক্ষেত্রে ভারতকেও পেছনে ফেলেছি আমরা। এসব সম্ভব হয়েছে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি, এটিকে অব্যাহত রাখতে হবে।

সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় শুধু বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয়, পৃথিবীর সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সেখানে কিন্তু সবাই উঠতে পারেনা, সে জন্য একটা ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন। তিনি অনেকের সাথে আলাপ করেছেন জানিয়ে বলেন, আমার মনে হয় হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট একটি উদ্যোগ নিতে পারে, কিভাবে কি করা যায়। চট্টগ্রামের মানুষ হিসেবে তিনি এ উদ্যোগের পাশে থাকবেন বলেও জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ জেড এম শরীফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবুল চন্দ্র শর্মা, উত্তম কুমার শর্মা, চট্টগ্রাম জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত, সাধারন সম্পাদক অসীম কুমার দেব প্রমূখ।