• আজ ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের অভিযোগে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রনিকে অব্যাহতি

১১:৩৬ অপরাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২০ রংপুর
rony

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ ধর্ষণ মামলার আসামি রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনিকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে যুক্ত থাকায় রংপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনিকে বহিষ্কার প্রদান করা হলো।

এ ছাড়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সুমন সরকারকে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হলো।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির বিরুদ্ধে ভুয়া বিয়ে করে একাধিকবার ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন এক স্কুলশিক্ষিকা।

লিখিত অভিযোগে স্কুলশিক্ষিকা জানান, ২০১৭ সালে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রনির বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাজিতপুর ফতেহপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আবু বক্কর। পরিচয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রনি তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে কাজের কথা বলে ১৮ লাখ টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এজাহারে তিনি আরও বলেন, বিয়ে করার কথা বললে টালবাহানা শুরু করে রনি। পরে তার বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের চাপে ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল তারিখে মেয়েটিকে নীলফামারীতে বিয়ে করার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজল কুমারের বাসায় নিয়ে গিয়ে ভুয়া কাজী এনে তাকে বিয়ের নাটক সাজানো হয়। ওই বাড়িতেও তাকে ধর্ষণ করে রনি।

বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর তাকে রনির বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বললে আবার টালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে সে। এর মধ্যে রনি জানায়, ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে ছয় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করায় আর ছাত্রলীগ করা হয়তো সম্ভব হবে না। সে কারণে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে ২০ লাখ টাকার দরকার। সেই টাকা তাকে জোগাড় করে দেওয়ার জন্য চাপ দেয় রনি। টাকা দিতে অস্বীকার করলে বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের জন্য বাদী চাপ দিলে চলতি বছরের ৫ জুন রনি তাদের কেরানীপাড়ার বাসায় আসে এবং আবার তাকে ধর্ষণ করে।

এই শিক্ষিকার অভিযোগ, রনি তাকে সরে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। সে হুমকি দেয়, তার হাত অনেক লম্বা ও প্রশাসন তার কথা মতো চলে। গত ১২ জুলাই তারিখে রংপুর নগরীর গনেশপুর ক্লাব মোড় এলাকায় রনির ফুফুর বাড়িতে তাকে নিয়ে গিয়ে বলে তার সঙ্গে কোনও বিয়ে হয়নি রেজিস্ট্রি হয়নি এবং কোনও কাবিননামাও সম্পাদিত হয়নি। এরপর তার সহযোগীদের দিয়ে তাকে তার ফুফুর বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

অবশেষে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন ওই নারী। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

police অবশেষে ডিবির এএসআই রাহেনুল গ্রেফতার

বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২০