• আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পী ও আয়োজকরা

১০:১৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২০ ময়মনসিংহ
ser

মইনুল হোসেন প্লাবন, শেরপুর প্রতিনিধিঃ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা পূজা উপলক্ষে শেরপুরের মন্দিরগুলোতে শুরু হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। তাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার প্রতিমা শিল্পী ও পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজকেরা।

এর মধ্যে খড়, মাটি আর দো-আঁশ মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষের পথে। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে জাঁকজমক পূর্ণভাবে না হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূর্গাপূজা আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, শেরপুর শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শেরপুর জেলায় ১৪২ টি মন্দিরে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪২টি মন্দিরে, নালিতাবাড়িতে ৩৫টি মন্দিরে, শ্রীবরদিতে ১০টি মন্দিরে, ঝিনাইগাতিতে ১৭টি এবং নকলায় ১৮ টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

শেরপুর জেলায় বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া অনুষ্ঠিত হবার পরপরই শেরপুরের মন্দিরগুলোতে শুরু হয়েছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। আগামী ২১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠিকতা, চলবে আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত।

এরই মধ্যে মন্দিরগুলোতে খড় ও মাটি দিয়ে পরম যত্নে গড়ে উঠছে প্রতিমা। এখন চলছে দো-আঁশ মাটির কাজ। আর এসব প্রতিমা তৈরিতে দম ফেলার ফুসরত নেই প্রতিমা শিল্পীদের। এরপর রঙ তুলির টানে প্রতিমাগুলো ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন প্রতিমা শিল্পীরা। দেবী মা দুর্গা তার সঙ্গে বিদ্যার দেবী স্বরসতী, ধন সম্পদের দেবী ল²ী এবং তার সঙ্গে দেবতা কার্তিক ও গনেশসহ নানা দেব-দেবীর প্রতিমার রূপকে ফুটিয়ে তুলবেন নিপুন হাতের ছোঁয়ায়।

এদিকে, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এবছর জাঁকজমকভাবে পূজার আয়োজন করছেন না আয়োজকেরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শনার্থীদের প্রতিমা ও পূজা দেখার ব্যবস্থা করছেন তারা। মন্দিরগুলোতে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকলেও থাকবে না সড়কগুলোতে।

প্রতিমা শিল্পী প নন পাল, রনজিৎ পাল, রবীন্দ্রনাথ দে, সৃজিত নাগ জানান, এ বছর এক একজন ভাস্কর ৪ থেকে ৬ টি করে প্রতিমা তৈরি করছেন। পূঁজা শুরুর দিন পর্যন্ত রঙ-এর কাজ করতে হবে তাদের। তবে করোনাকালীন চাহিদার তুলায় মজুরি কম পাচ্ছেন তারা। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে চলে গেলেও তারপরেও বাপ দাদার আদি পেশা টিকিয়ে রাখছেন তারা।

আয়োজক শংকর ঘোষ, ঘোষ, কৃষ্ণ ঘোষ, সজীব ঘোষ, জনি ঘোষ, রনি ঘোষ জানান, এর মধ্যে আমরা পূঁজা উদযাপন পরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিধি মেনে শুধুমাত্র মন্দিরের ভিতরে আয়োজনের কথা বলেছি। তবে এবার সড়কগুলোতে আলোকসজ্জা, গান-বাজনাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি এড. সুব্রত দে ভানু আশা প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রদায়ীক সম্প্রতির জেলা শেরপুর। তাই দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এবারের পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনা হয়েছে।

করোনা ভাইরাস প্রাদূর্ভাবের জন্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে শুধুমাত্র মন্দিরের ভিতরে আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। তবে এবার সড়কগুলোতে আলোকসজ্জা, মাইক, গান-বাজনার ব্যবস্থা বাদ দিয়ে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।