সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিধবা নারী ভিক্ষুককে ধর্ষণের চেষ্টা, ব্যর্থ হয়ে হত্যা

৪:২৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়ায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হাসিলা বেগম নামে এক স্বামী পরিত্যক্তা বিধবা ভিক্ষুককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত দুই আসামি।

আসামিরা হলেন- ধুনট উপজেলার আনারপুর কচুগাড়ি গ্রামের শামসুল মন্ডলের ছেলে বাদশা আলম ও আনারপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের বাদু মন্ডলের ছেলে ফজলুল হক। তারা উভয়েই পেশায় সিএনজিচালক।

রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধুনট থানার এসআই আকবর আলী।

তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বগুড়া আমলি আদালাতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ হাসান। নিহত হাসিলা বেগমের মোবাইলের কল লিস্টের সূত্র ধরে ১৬ অক্টোবর রাতে নিজ বাড়ি থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় ভিক্ষা শেষে আনারপুর গ্রামে বোনের বাড়ি গিয়েছিলেন হাসিলা বেগম। ফেরার পথে তাকে হত্যা করে বাদশা ও ফজলুল।

জানা গেছে, একই উপজেলার কালেরপাড়া ইউপির ঘুগরাপাড়া গ্রামের শুকর আলী মন্ডলের মেয়ে হাসিলা বেগম সারাদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভিক্ষা করতেন। দিন শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে হাঁড়িতে চড়াতেন ভিক্ষা করে পাওয়া চাল। সঙ্গে ভিক্ষার সামান্য টাকায় কেনা ডাল, আলু বা সবজি। ১৩ অক্টোবর সকালে বাড়ির পাশের একটি পতিত জমি থেকে তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৩ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বোন ধলি বেগম। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বাদশা আলম ও ফজলুল হককে আদালতে তোলা হয়।

ধুনট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিঞা জানান, ১২ অক্টোবর রাতে বোনের বাড়ি থেকে ফেরার সময় হাসিলা বেগমকে ধানক্ষেতের পাশে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে বাদশা আলম ও ফজলুল হক। পরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

গ্রেফতারকৃত দুই আসামি দায় স্বীকার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকান্ডে আরো কয়েকজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে তারা। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।