করোনা প্রতিরোধে পশ্চিমবঙ্গের পূজামণ্ডপে সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

৯:৩৬ অপরাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২০ আন্তর্জাতিক
kolkata

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ‘প্রতিটি পূজামণ্ডপকে কন্টেইনমেন্ট জোন বা নো এন্ট্রি জোন’ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। কোনো মণ্ডপেই দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না রায়ে বলা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে আদৌ পূজা করার অনুমতি দেওয়া সঙ্গত কি-না তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় সোমবার হাইকোর্ট রাজ্যের সব পূজার জন্য এই নির্দেশ কার্যকর বলে রায় দেন। এর আগে ঈদ ও রথযাত্রার সময়ও একই পথে রায় দিয়েছিল আদালত।

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি বেঞ্চ জানিয়েছেন, প্রতিটি পূজা মণ্ডপ কন্টেইনমেন্ট জোন। দর্শকশূন্য থাকবে পূজা মণ্ডপ। পাশাপাশি মণ্ডপের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। তাদের নাম আগে থেকে পুলিশের কাছে নথিভুক্ত করতে হবে। ছোট প্যান্ডেলে ৫ মিটার দূরত্ব, বড়গুলোতে ১০ মিটার দূরত্ব রাখতে হবে। প্যান্ডেলের সীমানা ঘিরে রাখতে হবে। সেখানে নো এন্ট্রি লিখে দিতে হবে।

এ বিষয়ে বিচারপতির বেঞ্চের পরামর্শ, শহরে যেমন মার্কেটে ভিড় হচ্ছে, সেটার পুনারাবৃত্তি হতে দেওয়া যায় না। ভার্চুয়াল কভারেজ করা যেতে পারে। সাধারণ দর্শক ভার্চুয়াল দেখবেন। রাজ্যের যে ৩৪ হাজার পূজা কমিটি অনুদান নিয়েছে এই নিয়ম সকলের জন্য প্রযোজ্য।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, ৩ হাজার পূজা মণ্ডপ আছে। সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, ‘কাগজে যা ছবি দেখছি, তা ভয় জাগানো। ২-৩ লাখ মানুষকে সামলাতে ৩০ হাজার পুলিশ!’

তবে রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতকে জানান, পুলিশ আরও বাড়ানো হবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র ও মুখ্যসচিবের কাছ থেকে কোনও পরামর্শ আসেনি, আপনাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল।’ পাশাপশি, ‘সরকারি গাইডলাইনে সদিচ্ছা আছে, তার বাস্তবায়ন নেই। মুম্বাইতে গণেশ পূজার অনুমতি দেওয়া হয়নি’ বলেও মন্তব্য করেন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে অধিক সংক্রমণের আশঙ্কা করে এবং করোনা আবহে এবছর বারোয়ারি দুর্গাপূজা বন্ধ রাখা নিয়ে এই মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। কেরলের ওনাম উৎসবের পর যে অবস্থা হয়েছে সেখানকার, এখানেও দুর্গাপূজা সেইভাবে পালিত হলে করোনা সংক্রমণ বাড়বে। এই প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রে গণেশ পূজা উৎসব এবং মহরম উৎসবের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও জানানো হয় মামলায়।