সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানালেন মির্জা ফখরুল

১০:০৩ অপরাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২০ জাতীয়
fokrul

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'সরকার নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে। এই সরকার জনবিচ্ছিন্ন। তাদের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।'

সরকারের প্রতি পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি আজ স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই পদত্যাগ করুন, অতীতের সব নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। এটাই একমাত্র সমাধান। কোভিড বলেন আর যাই বলেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না।’

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা-৫ এবং নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন। একই দাবিতে মঙ্গলবার সারাদেশে প্রত্যেক থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে এ দল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য, এখন যে নির্বাচন কমিশন আছে, সেটা একটা ঠুঁটো জগন্নাথ, লজ্জা-শরম বলতে কিছু নাই। ঢাকা শহরের পাশে ১০ ভাগ ভোটও না, আমরা মনে করি পাঁচ ভাগও পড়েনি। বলছে, সন্তষ্ট হয়েছে। একটা মানুষের লজ্জা-শরম-হায়া থাকে, এদের তাও নাই। তারা বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।’

‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি নির্বাচনে গেছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কথাটা তো মিথ্যা বলেননি। নির্বাচন তো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে ২০১৪ সাল থেকেই। আপনারা ক্ষমতায় আসার পর সুপরিকল্পিতভাবে দেশের মানুষ যাতে পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে না পারে, সে ব্যবস্থা করেছেন। ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে ক্ষমতায় গেছেন। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন, পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। মিডিয়াকে ব্যবহার করেছেন।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে দেশ নিরাপদ নয়, দেশের মানুষ নিরাপদ নয়, তার প্রমাণ মা-বোনেরা এখন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে না। বিনা বিচারে হত্যা, এখানে তাদের মতের সঙ্গে যারা একমত নয়, তাদের গুম করে নেয় অথবা হত্যা করা হয়। যে পুলিশ মানুষের নিরাপত্তা দেবে, সেই পুলিশ কক্সবাজারে সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। সেখানে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। মানুষ কোথায় যাবে? যাদের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া, তাদের দ্বারাই হত্যাকাণ্ড হচ্ছে।’

যুব-তরুণ ছাত্র সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন, আমরা শপথ গ্রহণ করি। এ দেশের জনগণের অধিকার ভোটের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। আজকে কেউ কথা বলতে পারবে না, কেউ লিখতে পারবে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবে না। এর চেয়ে বড় নির্যাতন-নিপীড়ন ও স্বাধীনতাহরণ আর কী থাকতে পারে। এরা এখন সম্পূর্ণভাবে একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারে পরিণত হয়েছে। একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। ভিন্নকথা বললেই মামলা। বাড়ির মহিলারাও বাদ যায় না, তাদেরও মামলার শিকার হতে হয়। আমি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাই, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট একদলীয় সরকারকে সরিয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম নকি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য দেন।