বসলো পদ্মাসেতুর ৩৩ তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৪ হাজার ৯৫০ মিটার

১১:০৪ অপরাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২০ ঢাকা
padma

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ, মাওয়া মুন্সীগঞ্জ থেকেঃ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ৩ ও ৪ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে ৩৩ তম স্প্যান ওয়ান-সি। ৮ দিনের ব্যবধানে বসানো হলো স্প্যান টি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) মাওয়া প্রান্তে সকালে স্প্যানটি বসানো হয়। ফলে সেতুর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার (৪ হাজার ৯৫০ মিটার) দৃশ্যমান হলো। গত ১১ অক্টোবর সেতুটির ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর স্থাপন করা হয় ৩২তম স্প্যান। ৩১তম স্প্যান বসানোর ৪ মাস পর এ স্প্যানটি বসানো হয়েছিল। তবে এবার মাত্র ৮ দিনের মাথায় বসানো হলো ৩৩তম স্প্যান।

গত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ৫ টি স্প্যান খুঁটির ওপর বসানোর লক্ষ্য ছিল সংশ্লিষ্টদের। গেল ৯ সপ্তাহ ধরে মাওয়া প্রান্তে সেতুর মূল পয়েন্টে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় একাধিক বার চেষ্টাকরে একটি স্প্যানও মাওয়া প্রান্তে বসানো সম্ভব হয়নি। এখন পদ্মায় বন্যার পানি ও স্রোত কমে যাওয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক গতি ফিরেছে। ফলে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজেও গতি ফিরেছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পদ্মা সেতুর সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির।

এদিকে ২৫ অক্টোবর ৭ ও ৮ নম্বর পিয়ারের ওপর ৩৪তম স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। ৩০ অক্টোবর ২ এবং ৩ নম্বর পিয়ারের ওপর ৩৫তম বসানো হবে। ৪ নভেম্বর ৩৬ তম স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি পাঁচ দিন অন্তর একটি করে স্প্যান বসানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

বাকি পাঁচটি স্প্যানও চলতি বছরই বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মা সেতুতে মোট ৪২টি খুঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। আর ৪২টি খুঁটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হলো ৩২টি স্প্যান। প্রতিটি স্পেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার।

৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সবকটি পিলার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

এদিকে, পদ্মা সেতুর প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, সেতুর মোট দুই হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ৮৭০টি, দুই হাজার ৯৫৯ রেল স্ল্যাবের মধ্যে এক হাজার ৪০০টি এবং ৪৩৮টি ভায়াডাক্ট গার্ডারের মধ্যে ১৯৫টি স্থাপন করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।